আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র হ্রাস নিয়ে আলোচনা!
আন্তর্জাতিক রাজনীতির চিত্রপটে আবারও শিরোনামে উঠে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি জানালেন, সম্প্রতি আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে পরমাণু অস্ত্র হ্রাসের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প বলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তির পর আমেরিকা ও রাশিয়া উভয়েই তাদের বিপুল পরিমাণ পরমাণু অস্ত্রের মজুত কমাতে সম্মত হয়েছে।” তাঁর দাবি, এই আলোচনায় ভবিষ্যতে চিনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, কারণ বিশ্বের কাছে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত পরিমাণ পরমাণু অস্ত্র রয়েছে।
গত ১৫ আগস্ট আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ শহরের নিকটবর্তী মার্কিন সেনাঘাঁটি ‘জয়েন্ট বেস এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন’-এ এই বৈঠক হয়। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও সাড়ে তিন বছরের এই সংঘাতের অবসান নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবু ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, পরমাণু অস্ত্র প্রসঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য গড়ে উঠছে।
এর আগে ১৮ আগস্ট হোয়াইট হাউসে ইউরোপীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার পর তিনি ফোনে পুতিনের সঙ্গেও কথা বলেন। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে পুতিন ও জ়েলেনস্কির মুখোমুখি আলোচনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ক্রেমলিন জানিয়েছে, আপাতত রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনও সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নেই।
ট্রাম্প এ নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, “পুতিন জ়েলেনস্কিকে পছন্দ করেন না।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রাশিয়া-ইউক্রেন সম্পর্কের জটিলতা এখনও গভীর।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকা ও রাশিয়া উভয়েরই বিশ্বকে আরও নিরাপদ করতে দায়িত্ব রয়েছে। তাই পরমাণু অস্ত্র হ্রাস এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও যোগ করেন, এই লক্ষ্য পূরণে চিনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর এই তিন দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বাস্তবায়ন সম্ভব বলে আশাবাদী তিনি।
আলাস্কার বৈঠক যদিও ইউক্রেন যুদ্ধের তাৎক্ষণিক সমাধান এনে দিতে পারেনি, তবে ট্রাম্প-পুতিনের আলোচনায় পরমাণু অস্ত্র কমানোর বিষয়ে সম্ভাব্য ঐকমত্য ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা হতে পারে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা ফেরাতে এই আলোচনা যে একটি বড় পদক্ষেপ, তা বলাই যায়।
দক্ষিণী স্বাদের অনন্য ভর্তা: এল্লু থুভৈয়াল, গরম ভাতে ঘি মেখে খেতে একেবারে স্বর্গীয়