আর জি কর মেডিক্যাল কাণ্ড: ধর্ষণ-খুন মামলায় জামিন পেলেন সন্দীপ ঘোষ ও অভিজিৎ মণ্ডল, উঠে এলো নতুন প্রশ্ন

আর জি কর মেডিক্যাল কাণ্ড আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দীপ ঘোষ ও অভিজিৎ মণ্ডলকে জামিন দিয়েছে আদালত। দীর্ঘ ৯০ দিন…

December 14, 2024
1 min read

আর জি কর মেডিক্যাল কাণ্ড

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দীপ ঘোষ ও অভিজিৎ মণ্ডলকে জামিন দিয়েছে আদালত। দীর্ঘ ৯০ দিন পরও সিবিআই চার্জশিট জমা দিতে না পারায় আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির মামলা এখনো চলমান।

জামিনের কারণ

সন্দীপ ঘোষ, আর জি কর মেডিক্যালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ, এবং অভিজিৎ মণ্ডল, টালা থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ, তথ্য-প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু সিবিআই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেছে।

আর্থিক দুর্নীতি মামলার জটিলতা

তথ্য-প্রমাণ লোপাট মামলায় জামিন পেলেও, আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সন্দীপ ঘোষকে এখনই মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। অপরদিকে, অভিজিৎ মণ্ডল জামিনের পর কারাগার থেকে ছাড়া পাবেন। তবে এই ঘটনায় সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। সময়মতো চার্জশিট জমা না দেওয়া এবং তদন্তের গতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

সুপ্রিম কোর্টে মামলা

এই বীভৎস ঘটনার পর চার মাস পেরিয়ে গেলেও, ন্যায়বিচার এখনো অধরা। সুপ্রিম কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানি মার্চ মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিহত তরুণী চিকিৎসকের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা লড়ছেন এমন আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সেপ্টেম্বর মাসে আইনজীবী বদল হওয়ার পর বৃন্দা গ্রোভার এই মামলা দেখছিলেন। তাঁর অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে এখন পর্যন্ত ৪৩ জনের বয়ান নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে। তবে তিনি আর এই মামলার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না বলে জানিয়েছেন।

আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ

বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ কোর্টে খুন ও ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে আদালতে হাজির করা হয়। নিহত তরুণীর মা-বাবার উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সিবিআই-এর তদন্তে বারবার ধীরগতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সময়মতো চার্জশিট না দিতে পারা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এই মামলায় সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে জনগণের মনে অসন্তোষ বাড়ছে।

ঘটনাপ্রবাহের ভবিষ্যৎ

এই মামলার ফলে বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কতটা বজায় থাকবে, তা এখনো অনিশ্চিত। আগামী মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে নতুন কী দিক উন্মোচিত হয়, তার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।

এই বীভৎস ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের যথাযথ শাস্তি এবং ন্যায়বিচার পাওয়া তরুণী চিকিৎসকের পরিবারের অধিকার। তবে এর পাশাপাশি সঠিক তদন্ত প্রক্রিয়া এবং সময়মতো চার্জশিট জমা দেওয়া সিবিআই-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *