আয়রনের ওষুধ খেয়েও কমছে না রক্তাল্পতা?
রক্তাল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে অনেকেই আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করেন। কিন্তু নিয়ম মেনে ওষুধ খাওয়ার পরেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হতে পারে ওষুধ খাওয়ার সময় ও খাবার বাছাইয়ে কিছু সাধারণ ভুল, যা শরীরে আয়রন শোষণের ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিকের মতে, আয়রনের ওষুধ খালি পেটে খেলে শরীর সবচেয়ে ভালোভাবে তা শোষণ করতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানানো সম্ভব হয় না। অনেকের খালি পেটে আয়রনের ওষুধ খেলে বমিভাব, পেটব্যথা, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা খাবারের সঙ্গে ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।
তবে শুধু কখন ওষুধ খাচ্ছেন তা নয়, কোন খাবারের সঙ্গে খাচ্ছেন সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খাবার ও পানীয় আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে চা, কফি, দুধ, ক্যালশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বা ক্যালশিয়াম সাপ্লিমেন্ট আয়রনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। একই সমস্যা কিছু অম্বলের ওষুধের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তাই চিকিৎসকেরা সাধারণত আয়রনের ওষুধ এবং এই ধরনের খাবার বা ওষুধের মধ্যে অন্তত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান রাখার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে, ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করে। তবে শুধু ফলের রস খেলেই হবে না। অনন্যা ভৌমিকের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আমলকি, পেয়ারা, কাঁচালঙ্কা, সজনেডাঁটা, লাল ক্যাপসিকাম, ব্রকোলি, কমলালেবু, মুসাম্বি, পেঁপে বা পাতিলেবুর মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার রাখলে আয়রন শোষণ আরও কার্যকর হতে পারে। তবে আলাদা করে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন কি না, সেই সিদ্ধান্ত অবশ্যই চিকিৎসক নেবেন।
এ ছাড়াও অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করে বসেন, যা চিকিৎসার ফলাফলকে প্রভাবিত করে। যেমন মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বাড়িয়ে বা কমিয়ে ফেলা, নিয়মিত ওষুধ না খাওয়া অথবা অন্য ওষুধের সঙ্গে একসঙ্গে খেয়ে নেওয়া। এই অভ্যাসগুলির কারণে শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন পৌঁছায় না এবং রক্তাল্পতার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আয়রনের ঘাটতি দূর করতে শুধু ওষুধ খেলেই হবে না, সঠিক নিয়ম মেনে খাওয়াও সমান জরুরি। চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে ওষুধ গ্রহণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ফলো-আপই রক্তাল্পতা কাটিয়ে ওঠার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?