‘আমি তখন একটা দানব হয়ে উঠেছিলাম’—নিজের কুকীর্তির কথা স্বীকার করলেন অজি অসবোর্ন
রক জগতের অন্যতম বিতর্কিত কিংবদন্তি অজি অসবোর্ন ফের শিরোনামে। তবে এবার কোনও সঙ্গীত নয়, বরং নিজেই তুলে ধরলেন নিজের জীবনের অন্ধকার অধ্যায়। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে অকপটে স্বীকার করলেন—একসময় তিনি এতটাই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন যে স্ত্রী শ্যারন অসবোর্নকে খুনের চেষ্টা করেছিলেন।
অজি বলেন, “আমি আমার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, ‘তোমাকে এখন শেষ করতে হবে। তুমি অনেক কষ্ট পেয়েছ।’ আমি একেবারে অন্ধকারে ছিলাম। এটা যেন আমি ছিলামই না, যেন ভেতরে একটা অন্য কেউ বসে ছিল।”
খ্যাতি, মাদক, ও আত্মধ্বংসের পথে
‘প্রিন্স অব ডার্কনেস’ নামে পরিচিত অজি অসবোর্নের জীবন সবসময়ই বিতর্কে ঘেরা। ‘ব্ল্যাক সাবাথ’-এর প্রাক্তন ভোকালিস্ট এবং সফল একক শিল্পী হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসে অমর হলেও, ব্যক্তি অজি একসময় হারিয়ে গিয়েছিলেন মাদক ও অ্যালকোহলের অন্ধকারে।
সেই সময় তাঁর জীবনে প্রবল প্রভাব ফেলেছিল নেশা, যা ধীরে ধীরে তাঁকে সহিংস ও নিয়ন্ত্রণহীন করে তোলে। অজি বলেন, তিনি বোঝার আগেই তাঁর জীবন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। ১৯৮৯ সালে মাদকাসক্ত অবস্থায় স্ত্রী শ্যারনকে গলায় চাপ দিয়ে খুন করার চেষ্টা করেন তিনি। শ্যারনের বয়ানে জানা যায়, সেদিন বাড়িতে অজানাভাবে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছিল। অজির চোখে ছিল অদ্ভুত এক শূন্যতা। তিনি বলেন, “আমার মনে হচ্ছিল, আজই শেষ দিন। কেউ আমাকে বাঁচাতে পারবে না।”
জেলে কাটানো সময় আর রিহ্যাবে ফেরা
সেই ঘটনায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। আদালত তাঁকে একাধিক মানসিক চিকিৎসা ও রিহ্যাব প্রোগ্রামে পাঠায়। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে পাল্টানোর চেষ্টা শুরু করেন অজি। স্ত্রী শ্যারনের সহায়তায়, বহুবার রিহ্যাবে যাওয়া, চিকিৎসা নেওয়া—সবকিছু মিলিয়ে এক লম্বা লড়াই।
আজও সেই সময়ের কথা মনে করে আঁতকে ওঠেন অজি। বলেন, “আমি শ্যারনের পাশে ঘুমাতাম আর ভাবতাম, কীভাবে আমি এমনটা করলাম! আমি তো ওকে ভালোবাসি। তারপর নিজের ভেতরের অন্ধকারকে দেখতে পেতাম—আমি একটা দানব হয়ে উঠেছিলাম।”
পরিবারের ক্ষমা ও জীবনের নতুন অধ্যায়
অজি অসবোর্নের জীবনে সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ শ্যারন ও তাঁর সন্তানরা। তাঁরা তাঁর পাশ ছাড়েননি, সেই কঠিনতম সময়েও। শ্যারনের কথায়, “আমি জানতাম, ও খারাপ মানুষ নয়। নেশা ওকে দানব করে তুলেছিল। কিন্তু ওকে আবার ফিরিয়ে আনতেই হত, নিজের ও আমাদের জন্য।”
বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সি অজি অসবোর্ন অনেকটাই সুস্থ। মাদক ছাড়ার পর ফিরে এসেছেন মঞ্চে, ফিরেছেন সৃষ্টিশীলতায়। কিন্তু জীবনের সেই ভয়াবহ অধ্যায় তাঁকে আজও তাড়িয়ে বেড়ায়।
অজি বলেন, “ভুল করেছিলাম, আমি সেটা জানি। কিন্তু এখন আমি সেই দানবটা নই। এখন আমি লড়াই করে বেঁচে থাকা একজন মানুষ।”
একজন শিল্পী যখন নিজের ভুল প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, তখন সেটা শুধু সাহসের পরিচয় নয়—একটি নতুন জীবনের, নতুন আলোয় ফেরার গল্পও। অজি অসবোর্নের গল্প সেই আলোয় ফেরারই এক অন্ধকার থেকে উত্তরণের উপাখ্যান।
খেলাধুলা বিল ঘিরে বড় রদবদলের মুখে বিসিসিআই! পরিবর্তনের হাওয়া ভারতের ক্রিকেট প্রশাসনে