“আমি এখনও মেনে নিতে পারিনি…” — জাতীয় দল থেকে বাদ, প্রতিটি ম্যাচেই জবাব দিচ্ছেন মহম্মদ সিরাজ

প্রতিটি ম্যাচেই জবাব দিচ্ছেন মহম্মদ সিরাজ মাত্র কিছু মাস আগেও ভারতীয় দলে তিন ফরম্যাটেই নিয়মিত মুখ ছিলেন মহম্মদ সিরাজ। কখনও কখনও তো মহম্মদ শামিকেও ছাপিয়ে জায়গা করে নিতেন প্রথম একাদশে।…

April 7, 2025
1 min read

প্রতিটি ম্যাচেই জবাব দিচ্ছেন মহম্মদ সিরাজ

মাত্র কিছু মাস আগেও ভারতীয় দলে তিন ফরম্যাটেই নিয়মিত মুখ ছিলেন মহম্মদ সিরাজ। কখনও কখনও তো মহম্মদ শামিকেও ছাপিয়ে জায়গা করে নিতেন প্রথম একাদশে। কিন্তু হঠাৎ করেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেলেন তিনি। শুধু তাই নয়, আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও তাঁকে ধরে রাখেনি। সেই ধাক্কা সহজ ছিল না। কিন্তু সিরাজ মাটিতে পড়েননি— উল্টে ফিরে এসেছেন আরও দৃঢ় হয়ে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ছিটকে যাওয়ার পর নিজের সঙ্গে লড়াই

হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হন সিরাজ। পুরস্কার নিতে গিয়ে গলায় কাঁটার মতো আটকে থাকা আক্ষেপের কথা গোপন রাখেননি। বললেন,

“চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে না থাকাটা আমি এখনও হজম করতে পারিনি। ধাক্কা লেগেছিল ঠিকই, কিন্তু নিজেকে ভেঙে পড়তে দিইনি। বরং ভুলগুলো শুধরে ফিটনেসে নজর দিয়েছি। এখন বোলিংটা আগের চেয়ে অনেক বেশি উপভোগ করছি।”

নিজের উপরই সন্দেহ, তারপর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া

জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর নিজের দক্ষতা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছিল সিরাজের মনে। সেটাই স্বাভাবিক, যখন আপনি দেশের হয়ে নিয়মিত খেলছেন, আর হঠাৎ বাদ পড়েন।

“আমারও মনে হয়েছিল, হয়তো আর পারব না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নিজেকে বোঝাতে পেরেছি— খেলার মান বজায় রাখলে ফেরার রাস্তা তৈরি হবেই,” বলছিলেন সিরাজ।
তিনি আরও যোগ করেন, “বল দু’দিকেই সুইং করাতে পারলে যে আত্মতৃপ্তি হয়, সেটা অন্য কিছুতে নেই।”

আইপিএলের নিয়ম বদলের সুবিধা নিচ্ছেন

এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পিছনে আইপিএলের একটি নতুন নিয়মের অবদানও স্বীকার করেছেন সিরাজ।

“এখন বলে আবার থুতু লাগাতে পারছি। কোভিডের পর সেটা নিষিদ্ধ ছিল, ফলে রিভার্স সুইং করানো কঠিন হয়ে উঠেছিল। কিন্তু নিয়ম বদলানোয় বল সুইং করানো এখন অনেক সহজ হচ্ছে,” জানিয়েছেন তিনি।

ঘরের মাঠে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

গুজরাত টাইটান্সের হয়ে খেললেও সিরাজ হায়দরাবাদের ছেলে। ঘরের মাঠে খেলতে নেমে নিজের চেনা পিচকে দারুণ কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

“উইকেট একটু মন্থর ছিল। আমি শুধু চেষ্টা করেছি ঠিক জায়গায় বল করতে। আমার পরিবার গ্যালারিতে ছিল, তাদের সামনে ম্যাচের সেরা হতে পেরে খুব ভালো লাগছে,” আবেগে ভাসছিল তাঁর কণ্ঠ।

জবাবের মঞ্চে সিরাজ

গত ম্যাচেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ম্যাচসেরা হন— সেই দল, যারা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিল। এবার হায়দরাবাদের মাঠে, নিজের শহরে ফের সেই কীর্তি। পরিষ্কার, সিরাজ এই আইপিএলকে শুধু খেলার মঞ্চ নয়, নিজের অপমানের জবাব দেওয়ার মঞ্চ হিসেবেই দেখছেন।

বল হাতে সিরাজ জানিয়ে দিয়েছেন— বাদ দেওয়া যায়, কিন্তু উপেক্ষা করা যায় না।

রুই-কাতলার একঘেয়েমিতে বিরাম! স্বাদ বদল আনতে রান্না করুন ট্যাংরা মাছের ঝালঝালে তেল-ঝাল

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *