“আমি একাই ছুটছি, প্রশ্ন কেন আমাকে?”– উৎসবের স্ত্রীর আবেগঘন বার্তা

উৎসবের স্ত্রীর আবেগঘন বার্তা! প্রায় চার দিন পেরিয়ে গেলেও পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়ের কোনও খোঁজ মেলেনি। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে নিখোঁজ পরিচালক, এবং তাঁর স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় আনন্দপুর থানায় ‘মিসিং ডায়েরি’ দায়ের…

April 6, 2026
0 min read

উৎসবের স্ত্রীর আবেগঘন বার্তা!

প্রায় চার দিন পেরিয়ে গেলেও পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়ের কোনও খোঁজ মেলেনি। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে নিখোঁজ পরিচালক, এবং তাঁর স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় আনন্দপুর থানায় ‘মিসিং ডায়েরি’ দায়ের করেছেন।

মৌপিয়ার কথায়, “উৎসব বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন নিমতার পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে। কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। আমি ব্যাঙ্কেও গিয়েছিলাম, তবু কিছু খোঁজ পাইনি। এখন পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। তারা যা বলতে চায়, তাই বলবে।”

প্রায় চার ঘণ্টা ধরে আনন্দপুর থানা এবং লালবাজার থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যাঙ্কে গিয়ে সাক্ষাৎকার নেন। তবে এই ঘটনায় এখনও কোনও নিখুঁত তথ্য হাতে আসেনি।

মৌপিয়া সামাজিক মাধ্যমেও স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়েছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু নেটিজেনদের একাংশ তার দিকে অভিযোগের তীর ছোড়ায় তিনি কষ্ট পেয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে মৌপিয়া স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমাকে কেন কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে, তা আমি বুঝতে পারছি না। আমি একমাত্র মানুষ যে দিনরাত এক করে ছুটে বেড়াচ্ছি। পুলিশ আমার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করছে। আমি যা জানি, সব জানিয়েছি। কিছু মানুষ যদি নিজের মতো করে মন্তব্য করে, সেখানে আমার কিছু করার নেই।”

তিনি আরও যোগ করেছেন, “আমার স্বামী কোথায়, সেটাই এখন আমার একমাত্র চিন্তা। যদি আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়, তা শুধু আমার মনোবল ভেঙে দেবে। এবং যদি আমার খারাপ হয়, তাহলে উৎসবের খোঁজ আর কেউ নেবে না। যাঁরা আমাকে প্রশ্ন করছেন, তাঁদের নিজের বিবেককে জিজ্ঞেস করা উচিত—‘তাদের কতটুকু জানার আছে?’”

মৌপিয়া আরও জানান, তিনি পুলিশি তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন। প্রতিটি তথ্য এবং ঘটনার বিবরণ তিনি পুলিশকে দিয়েছেন, এবং এখন শুধুই তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন।

পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত, তবে মৌপিয়ার দৃঢ় সংকল্প এবং উদ্বেগপূর্ণ বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তিনি একা হলেও সকল সুযোগ ও প্রচেষ্টা কাজে লাগাচ্ছেন স্বামীর খোঁজে। সমাজমাধ্যমের সমালোচনা বা প্রশ্ন তার মনোবলকে নষ্ট করতে পারবে না।

এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের তৎপরতা, স্থানীয় সাহায্য এবং জনসাধারণের সমর্থন একমাত্র আশার আলো হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মৌপিয়ার আবেগঘন বার্তা যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে—একজন নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার দিনের পর দিন কতটা লড়াই করে, আর কতটা সহানুভূতি প্রয়োজন।

শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *