সমালোচকদের কড়া জবাব মেসির!
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই একাংশের অভিযোগ, ফিফা নাকি মেসিদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। তবে সেই সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে কড়া বার্তা দিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছে, কোনও বাড়তি সুবিধা পেয়ে নয়।
বিশ্বকাপ জুড়ে আর্জেন্টিনার সাফল্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য এবং সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে নকআউট পর্বে ওঠার পর অভিযোগ আরও জোরালো হয় যে, সূচি এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তে নাকি মেসিদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ আর্জেন্টিনা শিবির।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নেওয়ার পর মেসি বলেন, গত চার বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল আর্জেন্টিনা। কারও ব্যক্তিগত মত বা সামাজিক মাধ্যমের সমালোচনায় সেই বাস্তব বদলে যাবে না। তাঁর কথায়, “আমরা মাঠে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছি। বিশ্বকাপের সেরা দুই দলের একটি হিসেবে ফাইনালে উঠেছি। এখানে কোনও কিছু ফাঁকতালে হয়নি, কেউ আমাদের কিছু পাইয়ে দেয়নি।”
মেসি আরও মনে করিয়ে দেন, পরপর দু’বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা অত্যন্ত কঠিন একটি সাফল্য। খুব কম দেশই এই নজির গড়তে পেরেছে। আর্জেন্টিনা সেই তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছে কঠোর পরিশ্রম, ধারাবাহিকতা এবং দলগত ফুটবলের জোরে।
আর্জেন্টিনা অধিনায়কের মতে, যদি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দল হেরে যেত, তা হলে সমালোচকেরা আরও বেশি করে নানা ধরনের অভিযোগ তুলতেন। কিন্তু জয়ের মাধ্যমে সেই সব বিতর্কের জবাব মাঠেই দিয়েছে তাঁর দল। তাই এখন বাইরের কথাবার্তার বদলে ফাইনালের প্রস্তুতিতেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান তাঁরা।
শুধু মেসি নন, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, সামাজিক মাধ্যমে কী লেখা হচ্ছে বা কে কী বলছেন, তা নিয়ে দলের কোনও আগ্রহ নেই। সেমিফাইনালের আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, বাইরের সমালোচনা নয়, ফুটবলারদের লক্ষ্য শুধু মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়া।
এখন আর্জেন্টিনার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে নামবে তারা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে মেসিদের সামনে। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে আবারও প্রমাণ করতে হবে, তাঁদের সাফল্যের ভিত্তি শুধুই প্রতিভা, পরিশ্রম এবং মাঠের লড়াই।
সমালোচনা যতই হোক, মেসির বার্তা স্পষ্ট— আর্জেন্টিনা কোনও বিশেষ সুবিধার জোরে নয়, নিজেদের যোগ্যতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?