আবাসনের দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে বেহালা
গত বছর কলকাতায় আবাসনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে বেহালা এলাকায়। সামগ্রিকভাবে কলকাতার আবাসন বাজার চাহিদার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা অর্জন করেছে, যা শহরতলির দিকে ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। নাইট ফ্র্যাঙ্কের সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বেহালা এবং বালিগঞ্জ: দুই বিপরীত মেরু
নাইট ফ্র্যাঙ্কের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে বেহালায় ফ্ল্যাটের দাম বেড়েছে প্রায় ৮% হারে। এই বৃদ্ধির ফলে বেহালা এলাকার প্রতি বর্গফুট আবাসনের দাম ৩৫০০ থেকে ৪৮০০ টাকার মধ্যে দাঁড়িয়েছে। তবে দাম বৃদ্ধির হার বেশি হলেও, বেহালার তুলনায় বালিগঞ্জের আবাসনের দাম অনেক বেশি। বালিগঞ্জে প্রতি বর্গফুটের দাম ঘোরাফেরা করেছে ৮২০০ থেকে ২১,০০০ টাকার মধ্যে।
বালিগঞ্জের ক্ষেত্রে আবাসনের চাহিদা দীর্ঘদিনের। নাইট ফ্র্যাঙ্কের চেয়ারম্যান শিশির বৈজল বলেন, “বালিগঞ্জ সবসময়েই কলকাতার প্রিমিয়াম এলাকায় পড়ে। তবে বেহালার এতটা এগিয়ে আসার পেছনে রয়েছে শহরের সীমার ক্রমশ বিস্তার।”

শহরতলির আবাসন বাজারের উন্নতি
শুধু বেহালা নয়, শহরতলির অন্যান্য এলাকাও আবাসন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। উত্তর শহরতলির মধ্যমগ্রাম এবং দমদম যশোর রোডে আবাসনের দাম ৪% থেকে ৫% পর্যন্ত বেড়েছে। নরেন্দ্রপুর, নিউ টাউন এবং সল্টলেকেও একই হার দেখা গেছে।
শহরতলির এই উন্নতি মূল শহরের সীমাবদ্ধতা এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার কারণেই সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, “মানুষ মূল শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে শহরতলিতে বাড়ি কিনতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।”
আবাসন বিক্রির সামগ্রিক চিত্র
নাইট ফ্র্যাঙ্কের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কলকাতায় মোট আবাসন বিক্রি হয়েছে ১৭,৩৮৯ ইউনিট। এর মধ্যে ১ কোটি টাকার মধ্যে থাকা আবাসন বিক্রি হয়েছে ১৪,২৮৪ ইউনিট। অন্যদিকে, ১ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে থাকা আবাসনের সংখ্যা ছিল প্রায় তিন হাজার।
সাধ্যের মধ্যে থাকা আবাসন বিক্রি হয়েছে ৭,৭৬৪ ইউনিট, যেখানে বিক্রি বেড়েছে ১১%। ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে থাকা আবাসনের বিক্রি বেড়েছে ১৯%। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে যে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত উভয় শ্রেণির মধ্যেই আবাসনের চাহিদা বেড়েছে।
বিলাসবহুল আবাসনের চাহিদা
মার্লিন গোষ্ঠীর এমডি সাকেত মোহতা বলেন, “২০২৪ সাল কলকাতার আবাসন ক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতার কারণে বিক্রি এতটা বেড়েছে।” বিশেষ করে ৬০ লক্ষ থেকে ৯০ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাট এবং ১ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকার আবাসনের বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে।
এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে বিলাসবহুল আবাসনের চাহিদাও কলকাতায় বাড়ছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির পাশাপাশি উচ্চবিত্তরা এখন বেশি ব্যয়বহুল আবাসনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
উপসংহার
কলকাতার আবাসন বাজার গত এক বছরে অভূতপূর্ব পরিবর্তন দেখেছে। বেহালা থেকে শুরু করে বালিগঞ্জ এবং শহরতলির বিভিন্ন এলাকাগুলি আবাসন চাহিদার দিক থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে এসেছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং শহরের প্রসারিত সীমা কলকাতার আবাসন ক্ষেত্রকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, কলকাতার আবাসন বাজারে বিনিয়োগের জন্য এটি একটি আদর্শ সময়। যারা বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এখন সুযোগের অভাব নেই।
ইসরোর নতুন চেয়ারম্যান: ভি নারায়ণ দায়িত্ব নেবেন ১৪ জানুয়ারি