আপ্তসহায়ক সুমিতের খোঁজে ভোররাতে অভিষেকের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি!
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে শনিবার ভোররাতে তল্লাশি চালাল শালবনি থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি, আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত একটি মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে খোঁজা হচ্ছে অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহকারী সুমিত রায়কে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুমিতের মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন নাকি অভিষেকের বাড়ির আশপাশেই ধরা পড়েছিল। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ সেখানে পৌঁছয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ৩টার সময় শালবনি থেকে আসা একটি দল কালীঘাটে পৌঁছে যায়। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পরও ভিতর থেকে কোনও সাড়া না মেলায় বাড়ির বাইরের তালা ভেঙে প্রবেশ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর বাড়ির বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হলেও সুমিত রায়ের কোনও খোঁজ মেলেনি। সকাল ৮টার কিছু পরে পুলিশ অভিযান শেষ করে এলাকা ছাড়ে।
এই ঘটনার সূত্রপাত একটি জমি দুর্নীতি মামলার তদন্তকে ঘিরে। সম্প্রতি মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। পাশাপাশি একটি আর্থিক অনিয়মের মামলাতেও সুমিতকে খোঁজা হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভোরবেলার এই পুলিশি অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। খবর পেয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সকালে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে যান। তবে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
অন্য দিকে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, কোনও পূর্বসূচনা ছাড়াই পুলিশ বাড়ির তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকেছে এবং গোটা বাড়ি তল্লাশি করেছে। যদিও এই অভিযানে কিছুই পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, পুলিশের সমস্ত কার্যকলাপ রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানান অভিষেক। তাঁর মতে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থার শামিল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতার কেন্দ্রে রয়েছেন অভিষেক। বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় সম্প্রতি তাঁকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। পাশাপাশি একটি সাইবার অভিযোগের তদন্তেও তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একাধিক মামলায় তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
এদিকে, শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তাঁকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই সুমিত রায়কে খুঁজতে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?