আপেলের বীজে লুকিয়ে আছে বিষ!
আমাদের প্রত্যেকেরই পরিচিত ফল আপেল। ডাক্তাররা প্রায়ই বলেন, “প্রতিদিন একটি আপেল, অসুখ রাখে দূরে।” কিন্তু অনেক সময় অজান্তেই আপেল খাওয়ার সময় তার ভেতরের ছোট ছোট বীজও পেটে ঢুকে যায়। তখনই প্রশ্ন ওঠে—এই বীজ কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আপেলের বীজের মধ্যে রয়েছে অ্যামিগডালিন নামের এক রাসায়নিক যৌগ। হজমের সময় এই অ্যামিগডালিন ভেঙে তৈরি করে হাইড্রোজেন সায়ানাইড, যা অত্যন্ত বিষাক্ত। সায়ানাইড শরীরে প্রবেশ করলে তা হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে মানুষ কোমায় চলে যেতে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
তবে এখানেই একটা আশার কথা। চিকিৎসকেরা বলছেন, এক–দু’টো বীজ খেয়ে ফেললে চিন্তার কিছু নেই। শরীর এত সহজে ক্ষতিকর মাত্রায় সায়ানাইড তৈরি করতে পারে না। বাস্তবে শরীরে বিষক্রিয়া ঘটাতে হলে এক কাপ ভরা আপেলের বীজ খেতে হবে। যা সাধারণ অবস্থায় প্রায় অসম্ভব।
এই কারণেই বলা হচ্ছে, ভুলবশত বীজ খেয়ে ফেললে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। কিন্তু সচেতনভাবে নিয়মিত বীজ খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। কারণ অল্প পরিমাণে হয়তো ক্ষতি হয় না, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা শরীরের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আপেল খাওয়ার সঠিক উপায় নিয়ে চিকিৎসকেরা স্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন। গোটা আপেল খাওয়ার সময় অবশ্যই বীজ বাদ দেওয়া উচিত। আপেলের খোসায় যে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে, তা শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। তাই খোসাসহ আপেল খাওয়া ভালো, তবে বীজ থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।
অন্যদিকে শুধু আপেল নয়, কাঠবাদাম, পিচ বা চেরি ফলের বীজেও একই ধরনের বিষাক্ত যৌগ পাওয়া যায়। এগুলিও নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা উচিত নয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আপেল অবশ্যই স্বাস্থ্যকর ফল, কিন্তু তার বীজ নয়। তাই অভ্যাস করুন—আপেল খাবেন প্রতিদিন, তবে বীজ ছুঁয়ে দেখবেনও না!