ফ্রান্সের সঙ্গীত উৎসবে ধর্ষণ!
সঙ্গীত, উৎসব আর উন্মুক্ত আনন্দের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ফ্রান্সের বার্ষিক ‘ফেট দে লা মুজ়িক’ (Fête de la Musique) এ বছর রীতিমতো বিতর্কের কেন্দ্রে। গান-বাজনার আবহ ছাপিয়ে উৎসবজুড়ে উঠে এসেছে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, সিরিঞ্জ হামলা, ছুরিকাঘাত এবং ছিনতাইয়ের একাধিক অভিযোগ। দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
১৯৮২ সালে শুরু হওয়া এই উৎসব প্রতি বছর ২১ জুন পালিত হয়। ‘সঙ্গীত সবার জন্য’— এই ভাবনা থেকেই ফ্রান্সের রাস্তা, পার্ক, ক্যাফে ও জনসমাগমের বিভিন্ন জায়গা এক দিনের জন্য পরিণত হয় উন্মুক্ত মঞ্চে। অধিকাংশ অনুষ্ঠানই বিনামূল্যে হওয়ায় দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মানুষ এতে অংশ নেন। এ বছর শুধু প্যারিসেই প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
তবে বিপুল জনসমাগমের মাঝেই একের পর এক অপরাধের অভিযোগ সামনে এসেছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহে দেশজুড়ে ২৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্যারিস থেকেই গ্রেফতার হয়েছেন ১৪৮ জন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ এসেছে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে। কয়েক জন নারী অভিযোগ করেছেন, তাঁদের পানীয়তে অজান্তে মাদক মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অসুস্থ বা অচেতন হয়ে পড়ার পরে তাঁদের উপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, অজ্ঞাত পদার্থভর্তি সিরিঞ্জ দিয়ে মহিলাদের শরীরে ইঞ্জেকশন দেওয়ারও একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে পুলিশের কাছে। এমনই একটি ঘটনায় আক্রান্ত এক তরুণীকে পরে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
প্যারিসের পাশাপাশি শহরতলি এলাকাগুলিতেও যৌন অপরাধের অভিযোগ সামনে এসেছে। নোজঁ-স্যুর-মার্ন এলাকায় ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে গ্যাগনি শহরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৪৮ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুধু যৌন অপরাধই নয়, উৎসব চলাকালীন ছুরিকাঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। টুলুজ় এলাকায় পৃথক দু’টি ঘটনায় এক পুরুষ ও এক মহিলা গুরুতর জখম হয়েছেন। দু’জনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাজধানী প্যারিসেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নোত্র দাম ক্যাথিড্রালের কাছাকাছি শাতলে এলাকায় প্রথম গোলযোগ শুরু হয়। ভিড়ের মধ্যে মারামারি, পথচারীদের উপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং দোকানে ঢোকার চেষ্টা— একাধিক ঘটনার খবর পাওয়া যায়। পরে সেন্ট জার্মেইন-দে-প্রে এলাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাসও ব্যবহার করতে হয় পুলিশকে।
প্রশাসনের দাবি, এত বড় জনসমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, নজরদারি বৃদ্ধি এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সব ধরনের অপরাধ রোখা সম্ভব হয়নি।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বিশ্বখ্যাত উৎসব বরাবরই ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এ বছরের একের পর এক গুরুতর অভিযোগের পর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি প্রশাসন। ভবিষ্যতে এমন বৃহৎ গণউৎসবে কীভাবে আরও কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?