আগ্নেয়গিরির গহ্বরে সোনালি ডিমের খোঁজ! সমুদ্রের তলদেশে ‘জৈব গুপ্তধন’ আবিষ্কারে চমক বিজ্ঞানীমহলে

আগ্নেয়গিরির গহ্বরে সোনালি ডিমের খোঁজ! সমুদ্রের গভীর অন্ধকারে এমন বিস্ময় অপেক্ষা করে থাকবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি গবেষকেরা। আলাস্কা উপসাগরের জলের তলায়, এক সক্রিয় আগ্নেয়গিরির গায়ে হঠাৎই দেখা গেল লক্ষ…

July 3, 2025
1 min read

আগ্নেয়গিরির গহ্বরে সোনালি ডিমের খোঁজ!

সমুদ্রের গভীর অন্ধকারে এমন বিস্ময় অপেক্ষা করে থাকবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি গবেষকেরা। আলাস্কা উপসাগরের জলের তলায়, এক সক্রিয় আগ্নেয়গিরির গায়ে হঠাৎই দেখা গেল লক্ষ লক্ষ সোনালি রঙের ডিমের সারি। এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কার চমকে দিয়েছে সমুদ্রবিজ্ঞানীদের। কেউ বলছেন নতুন প্রাণীর আবির্ভাব, কেউ বলছেন জৈব বিবর্তনের স্বাভাবিক ধাপ। কিন্তু এককথায়, বিজ্ঞানীদের চোখে এটি এক অভিনব ‘জীবন্ত গুপ্তধন’।

২০২৩ সালে কানাডার সরকারি সংস্থা ফিশারিজ অ্যান্ড ওশন্‌স-এর একটি অনুসন্ধানকারী দল প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে গবেষণায় নামে। উদ্দেশ্য ছিল আলাস্কা উপসাগরের অন্তর্লীন আগ্নেয়গিরি ও পরিবেশগত বৈচিত্র্য বোঝা। সেই অভিযানেই বিজ্ঞানীদের নজরে আসে অজস্র গোলাকার, ঝকঝকে সোনালি বস্তু। প্রথমে বোঝা যায়নি, এগুলো কী। ধীরে ধীরে জানা গেল—এগুলি আসলে ডিম। অচেনা, রহস্যময় এবং গঠনগতভাবে অন্য যেকোনও সামুদ্রিক ডিমের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

দলের প্রধান গবেষক ডু প্রিজ় জানান, আগ্নেয়গিরির শীর্ষে একটি বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রায় ২৬ লক্ষ ডিম পাওয়া গিয়েছে। প্রতিটি ডিমের দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ ইঞ্চি, ব্যাস চার ইঞ্চি। এগুলির খোলস রেশমের মতো সূক্ষ্ম টিস্যুতে তৈরি, যেগুলি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে বিশ্লেষণের জন্য।

গবেষণার প্রথম পর্যায়ে মনে করা হয়েছিল, হয়তো এটি একেবারে নতুন কোনও প্রাণীর ডিম। তবে পরে ছবি ও নমুনা খতিয়ে দেখে বিজ্ঞানীরা জানান, এগুলি সম্ভবত প্রশান্ত মহাসাগরীয় সাদা স্কেট নামের এক বিশেষ সামুদ্রিক প্রাণীর ডিম। এই স্কেট জাতীয় মাছ সাধারণত ঠান্ডা পরিবেশে, সমুদ্রের প্রায় ৯,৫০০ ফুট গভীরে বাস করে। তাদের ডিম ফোটাতে লাগে চার থেকে দশ বছর। কিন্তু আগ্নেয়গিরির তাপে তৈরি হওয়া ভূ-তাপীয় শক্তি সেই সময় হ্রাস করতে সাহায্য করছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

আগ্নেয়গিরির গায়ে থাকা গরম, খনিজ-সমৃদ্ধ তরল পদার্থ আশপাশের জলকে ইনকিউবেটরের মতো উত্তপ্ত করে রাখছে। এর ফলে ডিমগুলোর ভ্রূণ দ্রুত পরিণত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আরও মনে করছেন, এই উষ্ণতা ও সুরক্ষিত পরিবেশ হয়তো শুধু সাদা স্কেট নয়, আরও কিছু বিরল প্রাণীর প্রজননের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ফলে ডিমের আকার ও সংখ্যার বিচারে এই আগ্নেয়গিরির গহ্বর গভীর সমুদ্রে এক অভিনব প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

রাত জাগলেই বাড়ছে হাঁপানির ঝুঁকি! মহিলারা সবচেয়ে বিপন্ন, কারণ লুকিয়ে হরমোন আর উদ্বেগে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *