আইপিএল স্বপ্নভঙ্গের রাতে কান্নায় ভেঙে পড়ল বৈভব!
আইপিএল ২০২৬-এ নিজের ব্যাটিং দিয়ে গোটা ক্রিকেটবিশ্বকে মুগ্ধ করেছে মাত্র ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। কিন্তু অসাধারণ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পরেও দলকে ফাইনালে তুলতে না পারার যন্ত্রণা শেষ পর্যন্ত চোখের জলে প্রকাশ পেল কিশোর ব্যাটারের।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাত টাইটান্সের কাছে রাজস্থান রয়্যালসের হার নিশ্চিত হওয়ার পর আবেগ সামলাতে পারেনি বৈভব। ম্যাচ শেষে মাঠেই তাকে চোখের জল মুছতে দেখা যায়। কমলা টুপি দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করলেও হতাশা লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। সেই দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে এবং বহু ক্রিকেটপ্রেমীকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।
চলতি মরসুমে রাজস্থানের হয়ে বৈভব যা করেছে, তা যে কোনও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের কাছেও ঈর্ষণীয়। ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান, স্ট্রাইক রেট ২৩৭.৩০, সঙ্গে ৭২টি ছয় এবং ৬৩টি চার— সব মিলিয়ে আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ব্যাটিং মরসুম উপহার দিয়েছে সে। এখনও কমলা টুপির দৌড়ে সবার উপরে রয়েছে বৈভব। দ্বিতীয় স্থানে থাকা শুভমন গিলের থেকেও তার রান বেশি।
তবে সংখ্যার থেকেও বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছে তার মানসিক দৃঢ়তা। প্লে-অফের পরপর দুই ম্যাচে শতরানের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও থামতে হয়েছে তাকে। এলিমিনেটরে ৯৭ এবং দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ৯৬ রান— দু’বারই অল্পের জন্য শতরান হাতছাড়া হয়েছে। বিশেষ করে গুজরাতের বিরুদ্ধে ম্যাচে রাজস্থানের একের পর এক উইকেট পড়লেও বৈভব একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে গিয়েছে।
৪৭ বলে ৯৬ রানের ইনিংসে সে মেরেছে ৮টি চার ও ৭টি ছয়। ওপেন করতে নেমে ১৮তম ওভার পর্যন্ত ক্রিজে ছিল। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তার লড়াই শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারেনি।
ম্যাচের পর বৈভবের কান্না শুধু সমর্থকদেরই নয়, প্রাক্তন ক্রিকেটারদেরও আবেগপ্রবণ করে তোলে। ধারাভাষ্যের দায়িত্বে থাকা Ravichandran Ashwin-কেও আবেগাপ্লুত দেখা যায়। তাঁর প্রতিক্রিয়ার ভিডিওও দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
তবে এই কান্না হয়তো ভবিষ্যতের আরও বড় সাফল্যের ইঙ্গিত। আইপিএল শেষ হলেও এখন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর ভারতের আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজগুলির দিকে। আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সিরিজ সামনে রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জিম্বাবোয়ে সফরেই ভারতের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হতে পারে বৈভবের।
ফাইনালে উঠতে না পারলেও আইপিএল ২০২৬ নিঃসন্দেহে বৈভব সূর্যবংশীর বছর হিসেবেই মনে রাখা হবে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে যে পরিণত ব্যাটিং, দায়িত্ববোধ এবং লড়াইয়ের মানসিকতা সে দেখিয়েছে, তা ভবিষ্যতের ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?