আইপিএলে কড়া বিসিসিআই!
আইপিএলের মাঝপথেই নড়েচড়ে বসল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। একের পর এক বিতর্ক এবং নিয়মভঙ্গের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য আট পাতার কড়া নির্দেশিকা জারি করল বিসিসিআই। বোর্ডের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ বার থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আর্থিক জরিমানা থেকে শুরু করে বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
বোর্ড সচিব দেবজিৎ শইকীয়া লিখিত ভাবে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা বোর্ডকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে রাজস্থান রয়্যালসের ম্যানেজার রোমি ভিন্দারের ডাগআউটে মোবাইল ব্যবহার এবং ক্রিকেটার রিয়ান পরাগের ভ্যাপিং বিতর্ক নতুন করে প্রশ্ন তুলেছিল ক্রিকেটার ও দলের আচরণ নিয়ে।
নতুন নির্দেশিকায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনও বাইরের ব্যক্তি ক্রিকেটার বা সাপোর্ট স্টাফের হোটেল রুমে ঢুকতে পারবেন না। অতিথিদের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। শুধুমাত্র হোটেলের লবি বা রিসেপশন এলাকাতেই দেখা করা যাবে। বোর্ডের মতে, এতে হানি ট্র্যাপ বা যৌন হেনস্থার মতো সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।
এ ছাড়াও ক্রিকেটার বা দলের কর্মীরা হোটেলের বাইরে কোথাও গেলে আগে থেকে সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার বা টিম ইন্টিগ্রিটি অফিসারকে জানাতে হবে। ব্যক্তিগত কাজ বা বিনোদনের উদ্দেশ্যে বেরোলেও টিম ম্যানেজারকে আগে থেকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউট, সাজঘর বা মাঠে দল মালিকদের সরাসরি ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বোর্ড। পিএমওএ বা ‘প্লেয়ার্স অ্যান্ড ম্যাচ অফিসিয়ালস অ্যাকসেস’ প্রোটোকল ভাঙাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হবে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে ভ্যাপিং বা ই-সিগারেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে। রিয়ান পরাগ এবং যুজবেন্দ্র চাহালকে ঘিরে বিতর্কের পর বিসিসিআই জানিয়ে দিয়েছে, মাঠ, ডাগআউট, সাজঘর কিংবা টিম হোটেলে ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভারতে ই-সিগারেট আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই ধরনের ঘটনায় শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নয়, আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
বোর্ড আরও নির্দেশ দিয়েছে, এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি দলকে বাধ্যতামূলক ব্রিফিং করতে হবে। সব ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফের কাছ থেকে লিখিত ভাবে নিয়ম মানার প্রতিশ্রুতিও নিতে হবে।
নিয়ম ভাঙলে কী শাস্তি হতে পারে, সেটাও স্পষ্ট করেছে বিসিসিআই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে শোকজ নোটিস পাঠানো হতে পারে। পাশাপাশি বড় অঙ্কের জরিমানা, চলতি বা ভবিষ্যতের আইপিএল থেকে বহিষ্কার, এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপও করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আইপিএলকে আরও পেশাদার এবং বিতর্কমুক্ত রাখতে এ বার অনেকটাই কঠোর পথে হাঁটছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা