আইডাহো বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্রছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুন: আদালতের রায়ে আজীবন কারাবাস ব্রায়ান কোহবার্গারের

আইডাহো বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্রছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুন! যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো রাজ্যে চার ছাত্রছাত্রীকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্রায়ান কোহবার্গারকে শেষমেশ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত। প্যারোল বা শাস্তি লাঘবের কোনও সুযোগ…

July 24, 2025
0 min read

আইডাহো বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্রছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুন!

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো রাজ্যে চার ছাত্রছাত্রীকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্রায়ান কোহবার্গারকে শেষমেশ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত। প্যারোল বা শাস্তি লাঘবের কোনও সুযোগ থাকবে না—এমনই কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছে আইডাহো আদালত। এই মামলাটি গোটা আমেরিকাতেই সাড়া ফেলে দিয়েছিল। নৃশংসতা, রহস্য আর অপরাধের জটিলতা—সব মিলিয়ে সংবাদমাধ্যম ও জনমনে ছিল প্রবল আলোড়ন।

কী ঘটেছিল সেই রাত?

২০২২ সালের নভেম্বরে, আইডাহো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সংলগ্ন একটি বাড়িতে ঘটেছিল সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। মৃতেরা হলেন—কায়লি গনকালভস, ম্যাডিসন মোগেন, ঝানা কার্নোডল এবং ইথান চ্যাপিন। চারজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একই বাড়িতে থাকতেন। রাতের অন্ধকারে, গভীর নিস্তব্ধতায় একে একে তাঁদের গলা কেটে খুন করা হয়। ঘুমন্ত অবস্থায় এই নৃশংসতা সংঘটিত হয় বলে পরে তদন্তে উঠে আসে।

এই হত্যাকাণ্ডের পর আতঙ্কে কেঁপে উঠেছিল গোটা আইডাহো এবং ছাত্রসমাজ। নিরাপত্তা প্রশ্নে উঠেছিল বড়সড় প্রশ্ন। কে, কেন, কীভাবে—এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর পেতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ কেটেছিল প্রশাসনের।

ধরা পড়ল ব্রায়ান কোহবার্গার

প্রায় এক মাসের তদন্তের পর পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে ২৮ বছর বয়সি ব্রায়ান কোহবার্গারকে। তিনি নিজে একজন ক্রিমিনোলজির ছাত্র—অপরাধবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। এই তথ্য জানার পর রীতিমতো স্তম্ভিত হয় সকলে। তদন্তকারীদের দাবি, এই অপরাধ একেবারে পরিকল্পনা করে, পূর্ব অভ্যাস এবং তাত্ত্বিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে করা হয়েছিল।

কোহবার্গারের গাড়ি, মোবাইল ফোনের লোকেশন, ডিএনএ নমুনা—সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ ছিল অত্যন্ত শক্ত। আদালতে এইসব তথ্য উপস্থাপন করা হলে তার পক্ষে সাফাই দেওয়ার কোনও পথই আর খোলা থাকেনি।

আদালতের রায়: প্যারোল ছাড়া আজীবন বন্দি

আদালত জানিয়ে দেয়, এই অপরাধের নিষ্ঠুরতা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে মৃত্যুদণ্ড বিবেচনায় ছিল। তবে আদালত অবশেষে আজীবন সশ্রম কারাবাসের রায়ই দেয়, তবে শর্ত থাকে—এই সাজা কোনওদিনও লঘু করা যাবে না, প্যারোলের সুযোগ নেই। অর্থাৎ, ব্রায়ান কোহবার্গার বাকিটা জীবন কাটাবেন জেলের অন্ধকার ঘরে।

মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবার আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, যদিও সন্তানদের আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবুও অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি অন্তত কিছুটা ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠা করল।

চিরকালীন দাগ সমাজে

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, কখনও কখনও মানুষের ভিতরের অন্ধকার দিক কতটা ভয়ংকর হতে পারে। একজন শিক্ষিত, বুদ্ধিমান যুবক কীভাবে নিজের জ্ঞানকেই অস্ত্র করে তুলতে পারে, তা দেখল গোটা দুনিয়া। আইডাহোর সেই চার তরুণ প্রাণের নৃশংস মৃত্যুর বিচার আজ আইনের হাতেই পৌঁছল, তবে মন থেকে এই দাগ সহজে মুছে যাবে না—না পরিবারগুলোর, না সমাজের।

খেলাধুলা বিল ঘিরে বড় রদবদলের মুখে বিসিসিআই! পরিবর্তনের হাওয়া ভারতের ক্রিকেট প্রশাসনে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *