অবতরণের সময় বিমানের চাকায় আগুন!
নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের আতঙ্কের ঘটনা। অবতরণের সময় আচমকাই বিমানের একটি চাকায় আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে। বিমানে থাকা সব যাত্রী এবং বিমানকর্মীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-৭২৬ বিমানটি ইস্তানবুল থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। সোমবার গভীর রাতে ছাড়া বিমানটি মঙ্গলবার ভোরে কাঠমান্ডুতে পৌঁছয়। রানওয়েতে নামার সময়ই হঠাৎ বিমানের একটি চাকায় আগুন দেখা যায়। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত তৎপর হন বিমানবন্দরের দমকলকর্মীরা। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
বিমানটিতে মোট ২৭৮ জন যাত্রী এবং ১১ জন বিমানকর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন রাষ্ট্রপুঞ্জের আধিকারিকও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সকলকেই নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় কেউ আহত হননি বলেই প্রাথমিক ভাবে খবর।
কী কারণে বিমানের চাকায় আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যান্ত্রিক ত্রুটি না কি অন্য কোনও কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত দল তদন্ত করছে।
ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়ে অতীতেও একাধিক বার উদ্বেগ প্রকাশ হয়েছে। পাহাড়ঘেরা এই বিমানবন্দরকে বিশ্বের কঠিন বিমানবন্দরগুলির মধ্যে ধরা হয়। এটি একটি ‘টেবল টপ’ বিমানবন্দর, অর্থাৎ রানওয়ের পাশে খাড়া ঢাল রয়েছে। ফলে ওঠানামার সময়ে পাইলটদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয়।
গত কয়েক বছরে নেপালে একাধিক বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালেও কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিমান ওঠানামা ব্যাহত হয়েছিল। এ ছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাঠমান্ডু থেকে ইস্তানবুলগামী একটি বিমান কলকাতায় জরুরি অবতরণ করাতে হয়েছিল। সে সময় পাইলটের সন্দেহ হয়েছিল, বিমানের একটি ইঞ্জিনে আগুন লেগেছে।
সোমবারের এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো নিয়ে। যদিও দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় বড় বিপদ এ বার এড়ানো গিয়েছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা