‘অপারেশন শিল্ড’ থমকে দাঁড়াল
যুদ্ধের দামামা না বাজলেও প্রস্তুতির ঘন্টা বেজে গিয়েছিল অনেক আগেই। সীমান্তে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার আবহে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল—৬টি রাজ্যে একযোগে আয়োজন হবে অসামরিক মহড়ার। এই মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন শিল্ড’। উদ্দেশ্য ছিল, হঠাৎ আক্রমণের সময় সাধারণ নাগরিক ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা।
তবে শেষ মুহূর্তে বদলে গেল পরিকল্পনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজস্থান, গুজরাত, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় এবং জম্মু-কাশ্মীরে হওয়ার কথা ছিল এই মহড়া। কিন্তু হঠাৎ করেই তা ‘স্থগিত’ করে দেওয়া হয়েছে।
কেন এই স্থগিতাদেশ?
এত বড় পরিসরে মহড়া স্থগিত হওয়ার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সম্প্রতি ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রভাব। গত ৬ মে মধ্যরাতে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছিল ভারত। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও হামলা চালায় সীমান্তবর্তী ভারতীয় এলাকায়। প্রায় চার দিন ধরে উত্তেজনা চলার পরে দুই দেশই সংঘর্ষ-বিরতিতে সম্মত হয়।
এই উত্তেজনার পারদ এখনো পুরোপুরি নামেনি বলেই প্রশাসনের অনুমান। তাই ফের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ না করে অসামরিক মহড়া চালানো ‘অনুচিত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে পাঞ্জাবে থেমে নেই প্রস্তুতি
যদিও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এখনই পাঁচ রাজ্যে মহড়া পিছিয়ে গেলেও, পাঞ্জাব রাজ্য সরকার জানিয়েছে তারা জুনের ৩ তারিখেই ‘অপারেশন শিল্ড’ অনুযায়ী মক ড্রিল এবং ব্ল্যাকআউট অনুশীলন করবে। পাঞ্জাবে সীমান্ত ঘেঁষা বহু এলাকা থাকায় এই ধরনের প্রস্তুতিমূলক মহড়া সেখানে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
বর্তমানে রাজস্থান, গুজরাত, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় ও জম্মু-কাশ্মীরে কবে আবার মহড়ার আয়োজন করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও নতুন দিন ঘোষণা করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, মহড়া স্থগিত হলেও ‘অপারেশন শিল্ড’ পুরোপুরি বাতিল নয়। বরং কেন্দ্র এখন ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতিতে চলছে—সীমান্ত পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক না হলে এমন বড় আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
সাধারণ মানুষের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ
অসামরিক মহড়ার মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সেনা বা প্রশাসনের নয়, সাধারণ মানুষেরও প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ানো। তাই এই ধরনের মহড়ায় অংশ নেওয়ার সময় নাগরিকদের কিভাবে আচরণ করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, বিদ্যুৎ বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কী করতে হবে—এই সব দিক নিয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
যদিও আপাতত থেমে গেল এই মহড়া, তবু ‘অপারেশন শিল্ড’-এর পরিকল্পনা যে নেহাতই বাতিল হয়নি, তা স্পষ্ট। পরিস্থিতি উপযুক্ত হলেই আবার গতি পাবে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন।
৭৫-এ সুদৃঢ়, জিমে ঝড় তুলছেন রাকেশ রোশন! ফিট থাকার ৭টা সিক্রেট এক্সারসাইজ