ড্রোন থেকে বি-২!
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত আবহে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে আমেরিকার সামরিক অভিযান Operation Epic Fury। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রকাশিত তালিকা বলছে, এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে আত্মঘাতী ড্রোন, ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে স্টেল্থ যুদ্ধবিমান— অর্থাৎ আধুনিক অস্ত্রভান্ডারের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রই।
ইজ়রায়েলের অভিযানের নাম ছিল Operation Lion’s Roar, আর আমেরিকার তরফে এই হামলার পোশাকি নাম ‘এপিক ফিউরি’। লক্ষ্য— ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং কৌশলগত স্থাপনা। তেহরান-সহ একাধিক শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
আকাশের ‘অদৃশ্য’ শিকারি: বি-২
অভিযানের সবচেয়ে চর্চিত অস্ত্র B-2 Spirit স্টেল্থ বোমারু বিমান। রাডার ফাঁকি দিয়ে গভীর আঘাত হানতে সক্ষম এই যুদ্ধবিমানকে আমেরিকার কৌশলগত শক্তির প্রতীক বলা হয়। অতীতে একাধিক উচ্চপ্রোফাইল অভিযানে এর ব্যবহার নজর কেড়েছে।
‘লুকাস’ ও আত্মঘাতী ড্রোন
এই অভিযানে প্রথম বার ব্যবহৃত হয়েছে ‘লুকাস’ ড্রোন, যা ইরানের Shahed 136-এর আদলে তৈরি বলে দাবি। কম খরচে একমুখী আক্রমণের জন্য তৈরি এই ধরনের ড্রোন দ্রুত লক্ষ্যভেদে কার্যকর। পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক MQ-9 Reaper ড্রোন, যা নজরদারি ও নির্ভুল হামলায় দক্ষ।
আকাশ প্রতিরক্ষায় ‘প্যাট্রিয়ট’ ও ‘থাড’
ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে মোতায়েন করা হয়েছে MIM-104 Patriot ইন্টারসেপ্টর সিস্টেম। নব্বইয়ের দশক থেকে ব্যবহৃত এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে সক্ষম।
এর পাশাপাশি রয়েছে THAAD বা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স, যা ‘হিট-টু-কিল’ প্রযুক্তিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পারে।
স্টেল্থ ফাইটার ও নৌবাহিনীর শক্তি
মার্কিন বায়ুসেনার একাধিক আধুনিক যুদ্ধবিমান— F-22 Raptor, F-35 Lightning II, F-16 Fighting Falcon, F/A-18 Super Hornet— অভিযানে অংশ নেয়।
সমুদ্রপথে সহায়তা দিয়েছে পরমাণুচালিত বিমানবাহী রণতরী ও গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। পাশাপাশি এম-১৪২ হিমার্স রকেট সিস্টেমও ব্যবহৃত হয়েছে স্থলভাগে আঘাত হানতে।
‘বিশেষ অস্ত্র’ ও এআই জল্পনা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত অস্ত্র ছাড়াও ‘বিশেষ কিছু’ প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, যার বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা থাকলেও সরকারি ভাবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। উল্লেখযোগ্য ভাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সম্প্রতি কিছু প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে সরকারি কাজ স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন— যা এই অভিযানের প্রেক্ষাপটে আরও কৌতূহল বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুধু একটি সামরিক হামলা নয়, বরং আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির প্রদর্শনীও বটে। ড্রোন, স্টেল্থ বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা— সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ভবিষ্যতের যুদ্ধ আর শুধু মাটিতে নয়, প্রযুক্তির অদৃশ্য জগৎেও লড়া হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?