অন্ধকারে আই-প্যাক দফতর: ২০ দিনের ছুটির নির্দেশে ধোঁয়াশা, ভোটকর্মে সক্রিয় পুরনো টিম

অন্ধকারে আই-প্যাক দফতর! সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের বহুতলে এক সময় যে দফতর ছিল রাজনৈতিক কৌশল ও প্রচারের ব্যস্ত কেন্দ্র, সোমবার সেখানে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি—নিস্তব্ধতা, অন্ধকার আর ফাঁকা ডেস্ক। তৃণমূল…

April 21, 2026
1 min read

অন্ধকারে আই-প্যাক দফতর!

সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের বহুতলে এক সময় যে দফতর ছিল রাজনৈতিক কৌশল ও প্রচারের ব্যস্ত কেন্দ্র, সোমবার সেখানে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি—নিস্তব্ধতা, অন্ধকার আর ফাঁকা ডেস্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের কলকাতা অফিস কার্যত তালাবন্ধ অবস্থায় থাকায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা।

দফতরের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে আলো-আঁধারির মিশ্র পরিবেশ। রিসেপশনের পাশে মহাত্মা গান্ধীর ছবি, যার উপর স্পটলাইট পড়লেও চারপাশ ছিল প্রায় নিস্তব্ধ। প্রবেশদ্বারের কাচের দরজায় তালা ঝুলছে, আর ভেতরে কয়েকজন কর্মী শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। বাইরে থেকে অফিসের চাঞ্চল্যের বদলে মিলছে “বন্ধ” দফতরের ইঙ্গিত।

২০ দিনের ছুটি ঘিরে ধোঁয়াশা

সূত্র অনুযায়ী, আই-প্যাক পশ্চিমবঙ্গে তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমে ২০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। শনিবার গভীর রাতে কর্মীদের কাছে এই ইমেল পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। সেখানে উল্লেখ ছিল, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আপাতত অপারেশন স্থগিত রাখা হচ্ছে।

তবে এই নির্দেশের ভাষা ও ব্যাখ্যা ঘিরে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। একদিকে লিখিতভাবে ছুটির কথা বলা হলেও, অন্যদিকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে—যারা চাইবেন তারা ভোটের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। এই দ্বৈত বার্তা কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

ভোটকাজে পুরনো টিমের ভরসা

দফতর বন্ধ থাকলেও রাজনৈতিক কাজে পুরোপুরি থেমে নেই আই-প্যাক সংযোগ। সূত্রের খবর, সংস্থার পুরনো ও বিশ্বস্ত কিছু কর্মী এখনও তৃণমূলের নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে তারা অফিসের অফিসিয়াল যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার না করে আলাদা ভাবে কাজ চালাচ্ছেন।

কিছু জেলায় গাড়ি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দলের অভ্যন্তরে দাবি, বিকল্প ব্যবস্থায় প্রচার ও সংগঠনের কাজ চালানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান

এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, কোনো কর্মীর চাকরি বা ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রচারের কাজ স্বাভাবিক গতিতেই চলছে এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বিরোধীদের পক্ষ থেকে।

অন্যদিকে, আই-প্যাকের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি সত্যিই ছুটি বা কার্যক্রম স্থগিত না হত, তাহলে সংস্থা থেকে সরাসরি স্পষ্টীকরণ আসত।

নীরব অফিস, বাড়ছে জল্পনা

অফিসের ভেতরের দৃশ্যও সেই জল্পনাকেই আরও উস্কে দিয়েছে—ফাঁকা ডেস্ক, নিভে থাকা লাইট, আর একমাত্র সচল একটি কম্পিউটার। দেওয়ালে ঝুলছে রাজনৈতিক প্রচারের স্লোগান ও সাংস্কৃতিক পোস্টার, কিন্তু কার্যত প্রাণহীন অফিস।

সব মিলিয়ে, আই-প্যাকের এই ‘নীরবতা’ শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নির্বাচনের মুখে এই পরিবর্তন কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন কৌতূহল তুঙ্গে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *