সন্তানের জন্মের আগে মনোবিদের শরণাপন্ন হয়েছিলেন গৌরব!
টলিপাড়ায় তাঁকে সবাই চেনে শান্ত, সংযত, মিতভাষী একজন অভিনেতা হিসেবে। প্রকাশ্যে কখনও উঁচু স্বরে কথা বলতে শোনা যায় না তাঁকে। অথচ বাস্তবের গৌরব চক্রবর্তী নাকি একেবারেই আলাদা মানুষ! তাঁর রাগের কথা আগেই ফাঁস করেছিলেন স্ত্রী ঋদ্ধিমা ঘোষ। এবার নিজেও অকপটে সে কথা স্বীকার করলেন গৌরব। শুধু স্বীকারোক্তি নয়, জানালেন— নিজের রাগ সামলাতে সন্তানের জন্মের আগেই মনোবিদের দোরগোড়ায় গিয়েছিলেন তিনি।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। আগে লোকে ভাবত, মন খারাপ মানেই অভিমান— তার আলাদা চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। মনোবিদের কাছে যাওয়া মানে ‘পাগল’ তকমা জুটে যাওয়া। কিন্তু এই ধারণা ভেঙে এখন অনেক তারকাই মানসিক স্বাস্থ্যের কথা খোলামেলা বলছেন। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম গৌরব চক্রবর্তী।
গৌরবের রাগ কেন এত প্রবল? কী বললেন তিনি?
গৌরব জানান, “আমার রাগের কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। রাগ হলেই চিৎকার-চেঁচামেচি— যা একেবারেই কাম্য নয়, বিশেষ করে বাবা হওয়ার আগে।” তিনি বুঝেছিলেন, পরিবারে নতুন অতিথি আসার আগে নিজেকে বদলানো জরুরি। তাই থেরাপি নেন।
তার কথায়, “ধীরের জন্মের আগে আমি রাগ নিয়ন্ত্রণের থেরাপি শুরু করি। এখন জানি কীভাবে রাগকে আটকে রাখতে হয়। থেরাপি না নিলে হয়তো আজও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম না।”
অভিনেতা আরও বলেন, রাগের মাথায় এমন অনেক কথা বা কাজ হয়ে যায়, যার জন্য পরে আফসোস থাকে। তাই কারও সাহায্য নেওয়া কোনও লজ্জার নয়। বরং তা শক্তিরই পরিচয়।
স্ত্রী ঋদ্ধিমাও আগেই জানিয়েছিলেন গৌরবের রাগের প্রসঙ্গ
ঋদ্ধিমা নানা সময়ে বলেছিলেন, বাইরে গৌরব যতটা শান্ত, বাড়িতে ততটাই উত্তেজনা-প্রবণ হয়ে উঠতে পারেন তিনি। সেই কথাই এবার স্বীকার করলেন অভিনেতা নিজে।
মনোবিদের কাছে যাওয়া মানেই দুর্বলতা নয়
গৌরবের মতে, মনোবিদের সাহায্য নেওয়া মানে পাগলামির তকমা নয়, বরং আত্মোন্নয়নের একটি পথ। তিনি বলেন, “মনের অসুখ হলে চিকিৎসা নিতেই হবে। যে কোনও অসুখে যেমন ওষুধ লাগে, মনও তার ব্যতিক্রম নয়।”
বলিউডের সম্পর্কেও থেরাপির গুরুত্ব বাড়ছে
শুধু গৌরব নন, সাম্প্রতিক কালে বহু তারকা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলাখুলি কথা বলছেন।
- সোনাক্ষী সিন্হা জানিয়েছেন, স্বামী জাহিরের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হতে শুরু করলে দু’জনেই থেরাপি নিয়েছিলেন।
- ফারহান আখতার ও স্ত্রী শিবানী দণ্ডেকর বিয়ের তিন দিন পরেই ‘কাপল থেরাপি’ শুরু করেন।
- আমির খানও মেয়ে আইরার সঙ্গে নিয়মিত থেরাপি নিয়ে উপকৃত হয়েছেন বলে জানান।
গৌরবের বার্তা
অভিনেতার মতে, “রাগের বশে কিছু করার আগে থেমে যাওয়া, কথা বলা এবং সাহায্য নেওয়া— এই তিনটি জিনিসই জরুরি। এতে সম্পর্ক, পরিবার এবং নিজের মানসিক শান্তি— সবই রক্ষা পায়।”
আজকের দিনে যখন মানসিক চাপ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে, তখন গৌরব চক্রবর্তীর এই স্বীকারোক্তি ও সচেতনতা নিঃসন্দেহে অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।