“অধিকার কেড়ে নিলে রক্ষা করব আমি”—ওয়াকফ বিতর্কে মুর্শিদাবাদে দৃঢ় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতার

ওয়াকফ বিতর্কে মুর্শিদাবাদে দৃঢ় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতার! সাম্প্রতিক ওয়াকফ আইন ঘিরে উত্তাল পরিস্থিতির আবহেই মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান ও সুতিতে প্রশাসনিক সফরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক মাস আগের হিংসাত্মক ঘটনার রেশ…

May 6, 2025
1 min read

ওয়াকফ বিতর্কে মুর্শিদাবাদে দৃঢ় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতার!

সাম্প্রতিক ওয়াকফ আইন ঘিরে উত্তাল পরিস্থিতির আবহেই মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান ও সুতিতে প্রশাসনিক সফরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক মাস আগের হিংসাত্মক ঘটনার রেশ এখনও মুছে যায়নি, ঠিক সেই সময়েই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এমন সফর বার্তাবহ তো বটেই, গুরুত্বপূর্ণও।

হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক মুখ্যমন্ত্রী

মঙ্গলবার ধুলিয়ানের বিডিও অফিসে হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোক-সান্ত্বনার পাশাপাশি তাঁর বার্তায় ছিল সতর্কতাও। এরপর সুতিতে প্রশাসনিক সভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কঠোর ভাষায় বলেন,
“ওয়াকফ নিয়ে যদি আন্দোলন করতে চান, যান দিল্লিতে। এখানে নয়। এখানে গোলাগুলি চললে আমি হয়ে যাব আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু।”

ওয়াকফ বিতর্ক ঘিরে অভয়বাণী ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি

সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে অভয়বাণী দিতে গিয়ে মমতা স্মরণ করান অতীতের সিএএ ও এনআরসি আন্দোলনের কথা। বলেন,
“আপনারা ভুলে গেছেন সিএএ, এনআরসির কথা? তখন তো আমিই রাস্তায় নেমেছিলাম। আজও যদি কেউ আপনাদের অধিকার কেড়ে নিতে আসে, তা রক্ষা করার দায়িত্ব আমার। সম্পত্তি ছিনিয়ে নিতে দেব না। আমার উপর ভরসা রাখুন, সম্প্রীতি বজায় রাখুন।”

হিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধেই মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান

সভায় মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি মানুষের পক্ষে, দাঙ্গার পক্ষে নন।
“দাঙ্গা মানেই কারও ঘর পুড়ে যাওয়া, রক্তপাত। এ আমি হতে দেব না। বিজেপি বা অন্য কোনও মৌলবাদী সংগঠনের প্ররোচনায় পা দেবেন না। যদি কখনও মনে হয় আমি আপনাদের সঙ্গে নেই, আমার গলাটাই কেটে দিন। তবু আমি ভেদাভেদের রাজনীতি করব না,”—দৃঢ় ভাষায় জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার বার্তা

তিনি আরও বলেন,
“আমি সব ধর্মকে ভালোবাসি। কেউ হিংসা ছড়াতে এলে মা-বোনরাই আগে রুখে দাঁড়ান। বাংলায় সম্প্রীতির বাতাবরণ বজায় রাখতে হবে।”

প্রশাসনিক উন্নয়নেও বার্তা—নতুন মহকুমা গঠনের ঘোষণা

সভায় তিনি জানান, সুতি, ধুলিয়ান ও ফরাক্কার মানুষের প্রশাসনিক পরিষেবা আরও সহজ করতে গঠন করা হচ্ছে নতুন মহকুমা। উন্নয়নের দিক থেকেও এই বার্তা মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর সরকার শুধুই প্রতিক্রিয়া নয়, সক্রিয় উদ্যোগে বিশ্বাসী।

উপসংহার

ওয়াকফ ইস্যুতে উত্তপ্ত আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর রাজ্যের শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করল। তাঁর কথায় স্পষ্ট—ধর্ম, বিশ্বাস, সম্পত্তি—যেটাই হোক, মানুষের অধিকার হরণ হলে তিনিই হয়ে উঠবেন প্রথম রক্ষাকর্তা। আর প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে মানুষ যেন ভরসা রাখে তাতেই।

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে মহাগঠবন্ধন: একসঙ্গে সব আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা তেজস্বী যাদবের

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *