অতর্কিত প্রতিশোধ নাকি বৃহত্তর সংঘর্ষের ইঙ্গিত? পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন হামলা ঘিরে জল্পনা

অতর্কিত প্রতিশোধ নাকি বৃহত্তর সংঘর্ষের ইঙ্গিত! পশ্চিম এশিয়ায় ফের অস্থিরতার ছায়া। শুক্রবার গভীর রাতে সিরিয়ায় একাধিক স্থানে আচমকা আকাশপথে হামলা চালাল মার্কিন সেনাবাহিনী। নিশানায় ছিল আইসিস জঙ্গিদের ঘাঁটি ও পরিকাঠামো।…

December 20, 2025
1 min read

অতর্কিত প্রতিশোধ নাকি বৃহত্তর সংঘর্ষের ইঙ্গিত!

পশ্চিম এশিয়ায় ফের অস্থিরতার ছায়া। শুক্রবার গভীর রাতে সিরিয়ায় একাধিক স্থানে আচমকা আকাশপথে হামলা চালাল মার্কিন সেনাবাহিনী। নিশানায় ছিল আইসিস জঙ্গিদের ঘাঁটি ও পরিকাঠামো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের দায়িত্ব নিজে নিয়ে একে স্পষ্ট ভাষায় “প্রতিশোধমূলক আঘাত” বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে এই হামলা কি শুধুই সীমিত প্রতিশোধ, না কি আরও বড় সংঘাতের সূচনা— তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, গত সপ্তাহে সিরিয়ায় একাধিক আমেরিকান নাগরিককে হত্যা করেছিল আইসিস জঙ্গিরা। নিহতদের দেহ দেশে ফিরতেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই হুঁশিয়ারিরই বাস্তব রূপ শুক্রবারের এই সামরিক অভিযান। মার্কিন বাহিনী আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইসিসের শক্ত ঘাঁটিগুলি চিহ্নিত করে পর পর আঘাত হানে।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে, এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’। মধ্য সিরিয়ার অন্তত ৭০টি এলাকায় একযোগে হামলা চালানো হয়। এফ-১৫ এবং এ-১০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে আকাশ থেকে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়। ট্রাম্পের দাবি, বহু জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইসিস সদস্য নিহত হয়েছে। অভিযানের পর মার্কিন সেনা বা সাধারণ নাগরিকদের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই বলেও জানানো হয়েছে।

এই হামলা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে— আমেরিকা কি আবার সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চলেছে? বিশেষত পশ্চিম এশিয়ায় একাধিক ফ্রন্টে উত্তেজনা চলার মধ্যেই এই আঘাত নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ সেই আশঙ্কা নস্যাৎ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “এটা কোনও নতুন যুদ্ধের সূচনা নয়। এটা স্পষ্ট ভাবে প্রতিশোধমূলক অভিযান। আমরা শুধু সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের অস্ত্রভাণ্ডার এবং পরিকাঠামো ধ্বংস করেছি।”

ট্রাম্পও সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হলেও আইসিসকে নির্মূল করতে পারলে সে দেশের ভবিষ্যৎ আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তিনি আরও বলেন, সিরিয়া সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এই অভিযানে সমর্থন জানিয়েছে। যদিও সিরিয়ার তরফে সরকারি ভাবে খুব সংযত প্রতিক্রিয়া এসেছে, তারা জানিয়েছে— সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যে কোনও আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হবে।

এই হামলার পর ট্রাম্প ফের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্বের সব জঙ্গি গোষ্ঠীকে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “আমেরিকার নাগরিক বা স্বার্থে আঘাত এলে তার জবাব এমন হবে, যা আগে কেউ দেখেনি।” এই মন্তব্যকে অনেকেই ভবিষ্যতের আরও আক্রমণাত্মক নীতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাঁদের ভূমিকা মূলত আইসিস দমন এবং স্থানীয় বাহিনীকে সহায়তা করা। তবে শুক্রবারের এই অতর্কিত হামলা দেখিয়ে দিল, প্রয়োজন হলে আমেরিকা সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগে পিছপা হবে না। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির বদলে সংঘাতের আশঙ্কাই কি আরও ঘনীভূত হচ্ছে— সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *