কুলগাঁওয়ের জঙ্গলে শহিদ দুই জওয়ান, চলছে টানা সংঘর্ষ!
কুলগাঁওয়ের অখল জঙ্গলে রাতভর গুলির লড়াই। দক্ষিণ কাশ্মীরের এই অঞ্চলে জঙ্গিদের খোঁজে টানা ন’দিন ধরে চলছে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন অখল’। শনিবার গভীর রাতে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে, প্রাণ হারান দুই জওয়ান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আরও দু’জন।
১ অগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এই অভিযান। প্রথম দিনেই তিন জঙ্গিকে নিকেশ করে সেনা ও পুলিশ বাহিনী। এরপর গত আট দিনে আরও কয়েকজন জঙ্গি নিকেশ হয়েছে সেনাবাহিনী, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ অভিযানে। এখনও পর্যন্ত ১০ জন জওয়ান আহত হয়েছেন।
অভিযান চলছে অখল নামের একটি ছোট গ্রামে, যা কুলগাঁও শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, ওই এলাকার ঘন জঙ্গলে বেশ কয়েকটি গুহায় লুকিয়ে রয়েছে জঙ্গিরা। তাদের খোঁজে ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং বিশেষ সেনা দল মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার রাতের ঘটনাটি ছিল বিশেষভাবে উত্তেজনাপূর্ণ। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই চলাকালীন একটি দল অতর্কিতে হামলার মুখে পড়ে। গুলিতে চার জওয়ান আহত হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও দু’জনকে বাঁচানো যায়নি।
এই অপারেশনকে ঘিরে টানা চাপের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনা কর্তৃপক্ষ। ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খোঁজ পেতে প্রতিনিয়ত বদলাতে হচ্ছে কৌশল। পাহাড়ি এলাকা, গুহা এবং ঘন অরণ্যে সহজেই লুকিয়ে থাকতে পারছে তারা।
এর আগে গত এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলায় প্রাণ গিয়েছিল ২৬ জনের। সেই ঘটনার জের এখনও রয়েছে। তার পরে শুরু হয় ‘অপারেশন মহাদেব’, যেখানে সেনা খতম করে হামলার মূল চক্রী সুলেমন ওরফে আসিফ এবং তার দুই সহযোগী জিব্রান ও হামজ়াকে—তিন জনই পাকিস্তানি নাগরিক।
সেই রেশ কাটতে না কাটতেই কুলগাঁওয়ে শুরু হয় নতুন অভিযান। এই ‘অপারেশন অখল’ শুধু আরেকটি সামরিক অভিযান নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এক বড়সড় বার্তা।
তবে এই অভিযানের মূল খরচটা গুনছেন সেই জওয়ানরাই, যারা প্রাণ হাতে করে নামছেন এই সংঘর্ষে। রাতভর জঙ্গলের ভেতরে গুলির শব্দ, আতঙ্ক আর মৃত্যুর ছায়া—এই সমস্ত কিছু নিয়েই এগোচ্ছে অভিযান। সেনার মতে, যত দিন না শেষ জঙ্গিটিকে ধরা যাচ্ছে, তত দিন চলবে এই লড়াই।
শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ আর প্রার্থনা—এই লড়াই যেন সফল হয়, আর নতুন করে যেন কোনো পরিবারকে সন্তান হারাতে না হয়।