মানসিক ভাবে ভাল থাকতে কুবরা সৈতের ৩ সহজ পরামর্শ!
মাঝেমধ্যে মন খারাপ হওয়া, ক্লান্তি বা হতাশায় ভোগা জীবনেরই অংশ। কিন্তু সাময়িক মনখারাপ আর অবসাদ এক নয়। নিজের আবেগকে বুঝতে শেখা, কাছের মানুষের সঙ্গে মনের কথা ভাগ করে নেওয়া এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া— মানসিক ভাবে ভাল থাকার জন্য এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন অভিনেত্রী কুবরা সৈত। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জানিয়েছেন, মনের যত্ন নেওয়া কেন জরুরি।
কুবরা জানিয়েছেন, ছোটবেলায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজ়অর্ডার (এডিএইচডি) ধরা পড়েছিল। বয়ঃসন্ধির সময় থেকে বিষণ্ণতা ও অবসাদের সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। সেই কঠিন সময় আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলেছিল। তবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মানসিক স্বাস্থ্যকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে, সমস্যাকে বুঝে তার মোকাবিলা করার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন অভিনেত্রী।
১. মন খারাপ হলেই নিজেকে রোগী ভাববেন না
কুবরার পরামর্শ, সামান্য হতাশা বা ক্লান্তি অনুভব করলেই তাকে অবসাদ কিংবা অন্য কোনও মানসিক অসুস্থতার তকমা দেওয়া ঠিক নয়। সাধারণ মনখারাপ, দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই প্রথমে বোঝার চেষ্টা করতে হবে, ঠিক কী কারণে মন খারাপ হচ্ছে। নিজের অনুভূতিকে তাড়াহুড়ো করে বিচার না করে তার উৎস খুঁজে বের করা জরুরি। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, নেতিবাচক চিন্তা বার বার ফিরে এলে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়।
২. মনের কথা চেপে রাখবেন না
আনন্দ, দুঃখ কিংবা উদ্বেগ— নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চাপ বাড়লে নিজেকে সবার থেকে সরিয়ে না রেখে কাছের কোনও বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন কুবরা। মনের কথা ভাগ করে নিলে একাকিত্ব কমতে পারে, সমস্যাকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগও তৈরি হয়। সব সমস্যার সমাধান সঙ্গে সঙ্গে না মিললেও, কঠিন সময়ে পাশে কাউকে পাওয়া অনেকটা স্বস্তি দিতে পারে।
৩. প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন
মানসিক সমস্যার সঙ্গে একা লড়াই করা সব সময় সম্ভব হয় না। দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা, অতিরিক্ত উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মে অসুবিধা হলে মনোবিদ বা মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কুবরার অভিজ্ঞতাতেও পেশাদার সাহায্যের গুরুত্ব উঠে এসেছে। ধ্যান বা মেডিটেশন মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে, তবে তা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।
মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার কোনও একটিমাত্র সহজ সূত্র নেই। নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া, প্রয়োজনের সময়ে সাহায্য চাওয়া এবং নিয়মিত নিজের যত্ন নেওয়াই হতে পারে সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।