‘লাস্ট স্টোরিজ়’ দেখানো থেকে রাতে বাড়িতে ভাইভা!
একাধিক ছাত্রীর যৌন হেনস্থা ও অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগের ভিত্তিতে কংগ্রেস সাংসদ তথা অধ্যাপক অংগোমচা বিমল অকোইজামকে বরখাস্ত করল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির তদন্তের পর ৯ অক্টোবর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছেন অকোইজাম।
অকোইজাম জেএনইউয়ের স্কুল অফ সোশ্যাল সায়েন্সেসের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ সোশ্যাল সিস্টেমসের অধ্যাপক ছিলেন। ২০২৪ সালে কংগ্রেসের টিকিটে মণিপুরের ইনার মণিপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১১ জন ছাত্রী তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগ জানিয়েছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগকারীদের বয়ান, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অভিযুক্ত অধ্যাপকের বক্তব্য খতিয়ে দেখে তাঁর আচরণে পেশাগত সীমারেখা লঙ্ঘনের একাধিক নজির পাওয়া গিয়েছে। উপাচার্য শান্তিশ্রী ডি পণ্ডিতের স্বাক্ষরিত নির্দেশের মাধ্যমে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী কী অভিযোগ উঠেছে?
তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অকোইজাম ছাত্রীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রেমিক এবং ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন করতেন। অভিযোগ, মৌখিক পরীক্ষার সময়ও এমন প্রশ্ন করা হত, যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত বিষয়ের কোনও সম্পর্ক ছিল না। কিছু ছাত্রী এই আলোচনায় অস্বস্তি বোধ করলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, অশালীন অঙ্গভঙ্গি এবং সম্মতি ছাড়া শারীরিক সংস্পর্শের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। কয়েক জন ছাত্রীর দাবি, তাঁদের হাত ধরতে বলা হয়েছিল এবং চিমটি কাটার মতো ঘটনাও ঘটেছিল।
রাতে বাড়িতে মৌখিক পরীক্ষা, ক্লাসে ‘লাস্ট স্টোরিজ়’
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ, অধ্যাপকের বাসভবনে রাত পর্যন্ত পরীক্ষা চলেছিল। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পরীক্ষার সময়, স্থান এবং তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে অসামঞ্জস্য ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ক্লাসে ‘লাস্ট স্টোরিজ়’ ছবিটি দেখানোর বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ, ছবির বিষয়বস্তু সম্পর্কে পড়ুয়াদের আগে যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। কমিটির মতে, এই ধরনের আচরণ শিক্ষার পরিবেশে অস্বস্তি ও প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। আঞ্চলিক ও লিঙ্গভিত্তিক অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগও নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার অকোইজামের
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর দাবি, যাচাই না করা ও মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে তাঁর সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। অন্য দিকে, এই ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র নারী সুরক্ষা নিয়ে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ করলেও অকোইজাম অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছেন। ফলে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে পেশাগত সীমারেখা ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের প্রশ্নও সামনে এসেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।