বিশ্বনাথ বসুর চোখে গণেশ কখনও বড়দাদা!
গণেশের সঙ্গে সম্পর্কটা শুধু ভক্তি বা প্রার্থনার নয়, বরং পরিবারের একান্ত আপন কারও মতো। অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুর কাছে গণেশ কখনও বড়দাদা, কখনও ছোটভাই, আবার কখনও সন্তানতুল্য। তাঁর বিশ্বাস, গণেশের মধ্যে রয়েছে এক সহজ, মাটির কাছাকাছি থাকা সত্তা, যা তাঁকে অন্য দেবতাদের থেকে আলাদা করে তোলে।
ছোটবেলায় পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় মায়ের সঙ্গে থাকতেন বিশ্বনাথ। বাড়িতে তাঁর ছোটমা, অর্থাৎ জেঠিমা, গণেশের কাছে প্রার্থনা করতেন, যাতে তিনি সাফল্য নিয়ে ফিরতে পারেন। সেই স্মৃতি আজও তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে। বিশ্বনাথের কথায়, জীবনের প্রতিটি শুভ সূচনার সঙ্গে গণেশের নাম জড়িয়ে আছে। সব পুজোর শুরুতে যেমন গণেশের আরাধনা করা হয়, তেমনই তাঁর নিজের জীবনেও গণেশ যেন সাফল্যের প্রথম মন্ত্র।
বিশ্বনাথের মতে, গণেশের চরিত্রে এক আশ্চর্য সরলতা রয়েছে। অন্যের প্রতি অভিশাপ বা ভয় দেখানোর বদলে তিনি কাজ করে গিয়েছেন। মহাভারত লিখেছেন, মানুষের দুঃখ-অভাব দূর করার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। অভিনেতার বিশ্বাস, মুম্বইয়ের প্রাণচাঞ্চল্য ও উষ্ণতার মধ্যেও সিদ্ধিবিনায়কের আশীর্বাদ রয়েছে। তাঁর চোখে, এই শহরের যে নিজস্ব গতি ও আবেগ, তা অন্য অনেক বড় শহরের মধ্যেও সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না।
গণেশের প্রতি এই টান বিশ্বনাথের কাছে নিছক ধর্মীয় আবেগ নয়, বরং পরিবারের সদস্যকে ভালোবাসার মতোই আন্তরিক। দুর্গাপুজোর বিসর্জনের সময় অন্য প্রতিমাকে প্রণাম করলেও গণেশের গালে চুমু খেয়ে বিদায় জানান তিনি। বলেন, “আবার এসো।” গণেশকে বিদায় দেওয়ার মুহূর্তে তাঁর মনে হয়, পরিবারেরই কেউ যেন দূরে চলে যাচ্ছে।
বিশ্বনাথের বিশ্বাস, গণেশের কাছে মনের কথা বলা যায়। সরাসরি বলতে না পারলেও তাঁর বাহন ইঁদুরের কাছে মনের কথা জানিয়ে দেওয়া যায়— এমনই এক সহজ, আপন ভাবনায় তিনি দেবতাকে কল্পনা করেন। তাঁর চোখে গণেশ বাধ্য, স্নেহশীল এবং একই সঙ্গে দুষ্টুমিতে ভরা এক শিশুর মতো।
নিজের ছোটবেলার কথাও মজা করে মনে করেছেন অভিনেতা। নাদুসনুদুস চেহারার জন্য তাঁকে অনেকে ‘গোবর-গণেশ’ বলতেন। তবে গণেশের গোলগাল চেহারার মধ্যে তিনি বরাবরই এক ধরনের মিষ্টত্ব খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে, বড় দোকান থেকে ছোট দোকান— সর্বত্র গণেশ-লক্ষ্মীর উপস্থিতি মানুষের বিশ্বাসের গভীরতাকেই তুলে ধরে।
একটি পুজোমণ্ডপে ইটভাটায় কাজ করা মহিলার আদলে দুর্গাপ্রতিমা দেখে মায়ের কোলে গণেশকে দেখেছিলেন বিশ্বনাথ। সেই দৃশ্য আজও তাঁর মনে রয়ে গিয়েছে। অভিনেতার কথায়, গণেশকে নানা রূপে কল্পনা করা যায় ঠিকই, কিন্তু তাঁর কাছে গণেশ সবচেয়ে প্রিয়— কারণ তিনি দেবতা হয়েও পরিবারের একান্ত আপনজন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।