স্টারলিঙ্ক নিয়ে মাস্কের ‘বাধা’র অভিযোগ, জবাব দিল কেন্দ্র—‘ভারতের ব্যবস্থায় বৈষম্যের প্রশ্নই নেই’

স্টারলিঙ্ক নিয়ে মাস্কের ‘বাধা’র অভিযোগ! ভারতের বাজারে স্টারলিঙ্কের প্রবেশে ‘কিছু অলিগার্ক’ বাধা দিচ্ছে—সমাজমাধ্যমে এমনই অভিযোগ করেছিলেন ইলন মাস্ক। তবে সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করল কেন্দ্রীয় সরকার। যোগাযোগ মন্ত্রকের বক্তব্য, স্যাটেলাইট…

October 8, 2026
1 min read

স্টারলিঙ্ক নিয়ে মাস্কের ‘বাধা’র অভিযোগ!

ভারতের বাজারে স্টারলিঙ্কের প্রবেশে ‘কিছু অলিগার্ক’ বাধা দিচ্ছে—সমাজমাধ্যমে এমনই অভিযোগ করেছিলেন ইলন মাস্ক। তবে সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করল কেন্দ্রীয় সরকার। যোগাযোগ মন্ত্রকের বক্তব্য, স্যাটেলাইট যোগাযোগ-সহ টেলিযোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে ভারতে একটি ‘সুষ্ঠু ও বৈষম্যহীন’ নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে।

বুধবার রাতে এক্স-এ পোস্ট করে মাস্ক দাবি করেন, কিছু গোষ্ঠী নিজেদের ‘একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রাখতে স্টারলিঙ্ককে ভারতে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। বরং ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে লেখেন, “কারা বাধা দিচ্ছে, আপনারাই বুঝে নিন।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের তরফে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে যোগাযোগ মন্ত্রক জানায়, সমাজমাধ্যমে ভারতের স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। মন্ত্রকের বক্তব্য, দেশে স্যাটেলাইট যোগাযোগ-সহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবা প্রদানকারীর জন্য একই ধরনের ন্যায্য ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থা রয়েছে। লাইসেন্স পাওয়া সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয় এবং ব্যবহারকারী ও তাঁদের তথ্যের সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত মানদণ্ডও মেনে চলতে হয়।

কেন্দ্রের দাবি, স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য লাইসেন্স পাওয়া তিনটি সংস্থাই বর্তমানে একই রকম নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। সেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী ধাপে এগোনোর সুযোগ মিলবে। ফলে কোনও একটি সংস্থাকে আলাদা করে আটকে রাখার প্রশ্ন নেই বলেই কেন্দ্রের বক্তব্য।

ভারতে স্টারলিঙ্কের প্রবেশের চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে গত বছরের জুনে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পায়। তবে এখনও পরিষেবা চালু হয়নি। জাতীয় নিরাপত্তা, স্পেকট্রাম এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক শর্তের কারণে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ হয়েছে।

ভারতের টেলিকম বাজারে ইতিমধ্যেই রিলায়্যান্স জিয়ো এবং ভারতী এয়ারটেলের মতো বড় সংস্থার সঙ্গে স্টারলিঙ্কের প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিন সংস্থাই স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার প্রাথমিক ধাপ পেরিয়েছে বলে Reuters জানিয়েছে। তবে চূড়ান্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও স্পেকট্রাম বরাদ্দ এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ দিকে মাস্ক আরও দাবি করেছেন, যাঁরা বর্তমান বাজারদরে ইন্টারনেট পরিষেবা নিতে পারছেন না বা যেখানে এখনও ইন্টারনেট পৌঁছয়নি, তাঁদের জন্য কম খরচে উচ্চগতির পরিষেবা দিতে পারে স্টারলিঙ্ক। কিন্তু ভারতে পরিষেবা শুরুর আগে সংস্থাটিকে কেন্দ্রের নির্ধারিত সব নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে।

অর্থাৎ, মাস্কের অভিযোগ এবং কেন্দ্রের বক্তব্য—দুই পক্ষের অবস্থানই এখন স্পষ্ট। তবে স্টারলিঙ্ক কবে ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য পরিষেবা চালু করতে পারবে, তা এখনও নির্ভর করছে নিরাপত্তা যাচাই এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী প্রক্রিয়ার উপর।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *