অধিনায়ক বদলের পরই হরমনপ্রীত-স্মৃতির সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা!
ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের নেতৃত্বে বড় বদল হয়েছে। সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন হরমনপ্রীত কৌর। তার পরেই নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে স্মৃতি মন্ধানাকে। আর এই নেতৃত্ব বদলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই ক্রিকেটারের সম্পর্ক নিয়ে নানা দাবি সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, অধিনায়কত্বকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে কিছু দিন ধরেই অস্বস্তি ছিল এবং তার প্রভাব ড্রেসিংরুমেও পড়েছিল বলে দলের একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে ‘মুখ দেখাদেখি বন্ধ’—এই দাবির কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা এখনও মেলেনি।
PTI-কে উদ্ধৃত করে এক দলীয় সূত্র দাবি করেছে, ‘‘ওরা কিছু দিন ধরে একে অপরের সঙ্গে একমত হচ্ছিল না। তার ফলে ড্রেসিংরুমেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল।’’ ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, নেতৃত্বের প্রশ্নটি দুই ক্রিকেটারের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছিল।
স্মৃতি নাকি বেশ কিছু দিন ধরেই ভারতীয় দলের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জেতার পরও নির্বাচকেরা হরমনপ্রীতের উপরই আস্থা রেখেছিলেন। ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে স্মৃতির মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তবে স্মৃতি প্রকাশ্যে কখনও হরমনপ্রীতের বিরুদ্ধে এমন কোনও অভিযোগ করেননি।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর। তার পরের পর্যালোচনা বৈঠকে নির্বাচকেরা ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। হরমনপ্রীতকে টেস্ট ও এক দিনের দলের নেতৃত্ব রেখে টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এর পর আর দেরি করেনি বোর্ড। সহ-অধিনায়ক স্মৃতিকেই তিন ফরম্যাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। হরমনপ্রীত অবশ্য অধিনায়কত্ব ছাড়লেও ক্রিকেটার হিসাবে ভারতের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা স্পষ্ট করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজের পুরনো মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর মিতালি বলেছিলেন, তাঁর মনে হয় স্মৃতিকে দু’-তিন বছর আগেই এক দিনের দলের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত ছিল। তবে টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব আরও তরুণ কারও হাতে দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছিলেন তিনি।
তবে সম্পর্কের টানাপড়েনের খবরের পাশাপাশি অন্য ছবিও দেখা যাচ্ছে। স্মৃতি নতুন অধিনায়ক হওয়ার পর হরমনপ্রীতের দীর্ঘ নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। ফলে প্রকাশ্য বার্তায় দুই ক্রিকেটারের মধ্যে সম্মানের অভাবের কোনও ইঙ্গিত নেই।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নেতৃত্বের বদলের পর হরমনপ্রীত এবং স্মৃতি কী ভাবে একসঙ্গে কাজ করেন। কারণ হরমনপ্রীত এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। নতুন অধিনায়ক হিসাবে স্মৃতির প্রথম দায়িত্ব হবে মাঠের বাইরের জল্পনা সরিয়ে দলকে এক সুতোয় বাঁধা। সেই পরিবর্তন ভারতীয় মহিলা দলের পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলে, নজর থাকবে সেদিকেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।