পুলিশের যৌন হেনস্থার ‘ভুয়ো সিসিটিভি’ ভিডিয়ো তৈরির অভিযোগ!
দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন এক মহিলাকে পুলিশকর্মীর যৌন হেনস্থার ‘সিসিটিভি ফুটেজ’ বলে একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ২৪ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ভিডিয়োটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ও বিকৃত করা হয়েছিল। ধৃতের নাম নাদিম আহমেদ। তিনি হরিয়ানার পালওয়ালের বাসিন্দা এবং নিজেকে স্বাধীন সাংবাদিক বলে পরিচয় দিতেন।
দিল্লি পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর সমাজমাধ্যমে ওই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। তখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ চলছিল। ভিডিয়োটিতে পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে এক মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করতে দেখা যায়। ভিডিয়োটিকে বিক্ষোভস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বলে প্রচার করা হয়েছিল এবং সমাজমাধ্যমে এক পুলিশ আধিকারিকের ছবি, নাম ও পদও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং ইউনিট প্রথমে ওই ভিডিয়ো ছড়ানো অ্যাকাউন্টটি শনাক্ত করে। তদন্তের সূত্র ধরে নাদিমের কাছে পৌঁছন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেটি পরীক্ষা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। ওই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে খোলা হয়েছিল এবং তাতে প্রায় ২৪ হাজার ফলোয়ার ও ১,২০০-র বেশি পোস্ট ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার মনজিতের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাদিম নিজেকে স্বাধীন সাংবাদিক বলে পরিচয় দেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তাঁর কাছে এআই-ভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির সরঞ্জাম ছিল এবং সেগুলি ব্যবহার করেই ওই ভিডিয়ো তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জেরায় জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নাদিম বলেছেন, পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি করে তাঁদের আরও উত্তেজিত করার লক্ষ্য ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন বলে পুলিশের বক্তব্য। তবে এই দাবি তদন্তের অংশ হিসাবেই সামনে এসেছে; পুলিশ বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্র বা অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ৩ অক্টোবরের বিক্ষোভে এক মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে এক পুলিশ আধিকারিকের যৌন হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক চলছে। ওই অভিযোগের তদন্ত আলাদা ভাবে চলছে এবং অভিযোগটি ও ভাইরাল এআই ভিডিয়োর মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
নাদিমকে আদালতে তোলা হয়েছে এবং আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজত দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে। তাঁর অর্থের উৎস, সম্ভাব্য সহযোগী এবং কোনও বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল কি না—সবই এখন তদন্তের আওতায়।
এ দিকে, বিক্ষোভস্থলে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পরিচয়পত্র দৃশ্যমান ভাবে পরার এবং পুলিশি মোতায়েনের কাছাকাছি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শও দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।