সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেল না মমতা তৃণমূল!
চারটি ‘ফ্রিজ়’ হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার সেই আর্জিতে হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত। কলকাতা হাই কোর্টে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন থাকায় দ্রুত শুনানির জন্য হাই কোর্টকেই অনুরোধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?
বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি বরালের বেঞ্চ জানায়, এই পর্যায়ে হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে তারা আগ্রহী নয়। একই সঙ্গে মামলার মূল বিষয় নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তও দেয়নি শীর্ষ আদালত। বরং কলকাতা হাই কোর্টকে মামলাটি দ্রুত শুনতে বলা হয়েছে।
এই চারটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টগুলি ‘ডেবিট ফ্রিজ়’ করা হয়েছে, অর্থাৎ সেখান থেকে টাকা তোলার বা খরচ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
কেন অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ়?
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি তদন্তের সূত্রেই ওই চারটি অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করা হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়েছে। মমতা-তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়, এই অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন বন্ধ থাকায় দলের স্বাভাবিক কাজকর্মে সমস্যা হচ্ছে। সামনে উপনির্বাচন থাকায় অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছিল।
তবে পুলিশের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে হাই কোর্টে করা আর্জিতে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গত ২৭ অগস্ট কলকাতা হাই কোর্ট চারটি অ্যাকাউন্ট সরাসরি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আগে দেওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন অনুমতি সাংঘর্ষিক হতে পারে।
মাসে কত টাকা খরচের দাবি?
শীর্ষ আদালতে তৃণমূলের আইনজীবীরা জানান, দল চালাতে প্রতি মাসে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। আদালতে মাসিক খরচের অঙ্ক প্রায় ১২ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। উপনির্বাচনের আগে সেই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ চাওয়া হয়েছিল।
এর আগে অন্য কয়েকটি ‘ফ্রিজ়’ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য কলকাতা হাই কোর্ট শর্তসাপেক্ষে টাকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। সেই ব্যবস্থায় আদালত নিযুক্ত বিশেষ আধিকারিকের নজরদারি রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ
চারটি অ্যাকাউন্ট নিয়ে শুনানির সময় তৃণমূলের নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ার কথাও উঠে আসে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, মূল প্রশ্ন হল—এই অর্থ ব্যবহারের অধিকার কার, তা-ও নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সেই বৃহত্তর বিষয়টি এখনও বিচারাধীন।
ফলে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট থেকে চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের কোনও অন্তর্বর্তী অনুমতি পেল না মমতা-তৃণমূল। এখন পরবর্তী শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, সে দিকেই নজর থাকবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।