নেমপ্লেট ছাড়াই ‘ইন্ডিয়া’র সাংবাদিক বৈঠকে সনিয়া!
দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বুধবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকের পরে সাংবাদিক বৈঠকে তৈরি হয় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি। বৈঠকে সনিয়া গাঁধীর উপস্থিতি জানা থাকলেও যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি থাকবেন—এমন প্রস্তুতি ছিল না বলে সূত্রের খবর। ফলে আগে থেকে ঠিক করে রাখা বসার ব্যবস্থা শেষ মুহূর্তে বদলাতে হয়।
৩০ সেপ্টেম্বর কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক হয়। নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে ঘিরে তৈরি বিতর্কের পাশাপাশি পরবর্তী কর্মসূচি নিয়েও বিরোধী দলগুলির মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠকে ২০টিরও বেশি দলের নেতা ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কোথায় বসবেন সনিয়া?
সূত্রের দাবি, সাংবাদিক বৈঠকের আগে লম্বা টেবিলে নেতাদের জন্য আসন নির্দিষ্ট করা ছিল। প্রত্যেকের সামনে নেমপ্লেটও রাখা হয়েছিল। কিন্তু সনিয়া আচমকা সাংবাদিক বৈঠকে পৌঁছনোয় সেই পরিকল্পনা বদলাতে হয়।
প্রথমে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের মাঝখানে বসার কথা ছিল। তাঁর এক পাশে রাহুল গাঁধী এবং অন্য পাশে আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের জন্য আসন রাখা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের এম এ বেবির জন্যও সামনের সারিতে আসন নির্দিষ্ট ছিল বলে সূত্রের দাবি।
সনিয়ার জন্য কোনও নেমপ্লেট না থাকায় তাঁকে কোথায় বসানো হবে, তা নিয়ে শেষ মুহূর্তে আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি তেজস্বীর জন্য রাখা আসনে বসেন বলে ওই সূত্রের দাবি। পরে খড়্গে নিজের পাশের আসনের নেমপ্লেট সরানোর নির্দেশ দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সনিয়ার পাশে গিয়ে বসেন। তাঁদের পাশে ছিলেন সুপ্রিয়া সুলে এবং সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধি হরেন্দ্র মালিক।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল সনিয়ার উপস্থিতি?
সনিয়ার আচমকা সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন তার আগেই কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বৈঠক ঘিরে তাঁর সঙ্গে দিগ্বিজয় সিংহের মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে এসেছিল।
NDTV-র প্রতিবেদনে সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দিগ্বিজয় সিংহ মন্তব্য করেছিলেন যে ২০২৪ সালে নীতীশ কুমারকে ‘ইন্ডিয়া’ জোট ছাড়তে দেওয়া উচিত হয়নি। সনিয়া গাঁধী সেই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মল্লিকার্জুন খড়্গেও সনিয়ার বক্তব্যকে সমর্থন করেছিলেন বলে একই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে সনিয়ার সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তাই তাঁর উপস্থিতিকে ওই অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার কোনও নিশ্চিত ভিত্তি নেই।
বৈঠকের মূল বিষয় কী ছিল?
‘ইন্ডিয়া’ জোটের বুধবারের বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকার SIR এবং কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের পরবর্তী কর্মসূচি। কংগ্রেস আগের দিন CWC বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক দাবি তুলেছিল। পরবর্তী সময়ে জোটের বৈঠকেও যৌথ কর্মসূচি এবং সংসদে বিষয়টি তোলার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
সাংবাদিক বৈঠকের বসার বিন্যাস শেষ মুহূর্তে বদলে গেলেও, বৈঠকের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র ছিল নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত বিরোধ এবং তার পরবর্তী কৌশল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।