চরিত্র বাছাই নিয়ে নিজের লড়াইয়ের কথা জানালেন প্রসেনজিৎ!
৬৪ বছরে পা দিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কখনও রোম্যান্টিক নায়ক, কখনও অন্য মেজাজের চরিত্র—সময় গড়ানোর সঙ্গে নিজেকেও বার বার নতুন ভাবে পর্দায় হাজির করেছেন তিনি। কিন্তু এত কিছু করার পরেও নতুন চরিত্র খোঁজার সেই তাগিদ কমেনি। বরং এখন চ্যালেঞ্জটা আরও কঠিন বলে মনে করেন অভিনেতা।
‘এখন ভাবতে হয়, নতুন আর কী করব!’
চরিত্র বাছাইয়ের প্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ জানান, বছরের পর বছর কাজ করতে করতে এমন অনেক ভূমিকাই তিনি করে ফেলেছেন, যা একসময় তাঁর কাছে নতুন ছিল। ফলে এখন নতুন কিছু খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।
অভিনেতার কথায়, ‘‘এত চরিত্র করে ফেলেছি। এখন ভাবতে হয়, নতুন আর কী করব!’’ তবে সেই ভাবনার মধ্যেও নতুন চরিত্র করার আগ্রহ একটুও কমেনি তাঁর। বরং প্রতিটি নতুন কাজের ক্ষেত্রেই নিজেকে অন্য ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
নিজেকে ভাঙারও তো একটা সীমা আছে
গত কয়েক বছরে পর পর একেবারে আলাদা ধরনের চরিত্রে দেখা গিয়েছে প্রসেনজিৎকে। একই সময়ের মধ্যে রকস্টার থেকে ডাক্তার—চরিত্রের বৈচিত্র্য ধরে রাখার চেষ্টা স্পষ্ট।
তবে অভিনেতা মনে করেন, নিজেকে ভাঙারও একটা নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। তাঁর মতে, গত ১০-১২ বছর ধরে এই নতুন চরিত্রের সন্ধানটা অনেকটাই তাঁর নিজের লড়াই। তাই বছরে দু’টি ছবি এমন হতে পারে, যা বাণিজ্যিক দিক থেকে তুলনামূলক নিরাপদ। পাশাপাশি আরও একটি বা দু’টি ছবিতে তিনি নিজের অভিনয়ের নতুন দিক তুলে ধরতে চান।
প্রসেনজিৎ বলেন, সব ছবিতেই যদি শুধুই ‘অন্য প্রসেনজিৎ’কে দেখানোর চেষ্টা করেন, তা হলে বাণিজ্যিক দিকটাও সামলানো কঠিন হবে।
‘গডফাদার’-এর মতো চরিত্রের ইচ্ছা
তাঁর অভিনীত বহু ছবির মধ্যে রোম্যান্টিক চরিত্রের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু সেই পুরনো ধরনের প্রেমের গল্পে বার বার ফিরতে চান না অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য, রোম্যান্টিক চরিত্রে ফিরলেও সেখানে নতুন কিছু থাকতে হবে।
এখনও এমন কিছু চরিত্র রয়েছে, যা করার ইচ্ছা তাঁর। সেই প্রসঙ্গে উঠে আসে ‘দ্য গডফাদার’-এর প্রসঙ্গ। মার্লন ব্র্যান্ডোর অভিনীত চরিত্রের মতো কোনও ভূমিকায় কাজ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ। অর্থাৎ এখনও তাঁর অভিনয়ের তালিকায় বেশ কিছু অপূর্ণ ইচ্ছে রয়েছে।
বাংলা ছবির দর্শক নিয়েও ভাবনা
শুধু নিজের চরিত্র নয়, বাংলা ছবিকে আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও ভাবাচ্ছে তাঁকে। প্রসেনজিতের মতে, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন ধরনের কাজ হচ্ছে। তবে সেই ছবি শুধু মাল্টিপ্লেক্সের দর্শকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।
একই সঙ্গে সাধারণ সিনেমা হলগুলিতেও বাংলা ছবির দর্শক ফেরানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, একসময় যে দর্শকের জন্য বাংলা ছবির শো হাউসফুল হত, তাঁদের আবার হলমুখী করার পথ খুঁজতে হবে।
অভিনেতার দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নতুন চরিত্রের সন্ধান যেমন চলছে, তেমনই বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর ভাবনা অব্যাহত। ৬৪-তেও তাই থামার কোনও ইঙ্গিত নেই—বরং এখনও তাঁর সামনে বাকি রয়েছে ‘আরও একটি নতুন চরিত্র’।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।