বিদেশের সম্পদেও নজর, কর-কড়াকড়িতে চিনা ধনকুবেরদের দুশ্চিন্তা!
চিনের ধনী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের উপর কর সংক্রান্ত নজরদারি আরও জোরদার করছে বেজিং। শুধু দেশের সম্পত্তি নয়, বিদেশে থাকা বিনিয়োগ, বিমা, অফশোর ট্রাস্ট এবং অন্যান্য সম্পদের হিসাবও এখন কর কর্তৃপক্ষের নজরে। ২০২৬ সালে এই তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এর পিছনে অন্যতম কারণ চিনের স্থানীয় সরকারগুলির আর্থিক চাপ। আবাসন খাতে দীর্ঘ মন্দার জেরে জমি বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় কমেছে। ফলে পুরনো আয়ের উৎসের বাইরে গিয়ে আরও নির্ভরযোগ্য রাজস্ব সংগ্রহের পথ খুঁজছে প্রশাসন। ধনী করদাতাদের বিদেশি সম্পদের উপর নজরদারি বাড়ানো সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই অংশ।
নতুন নিয়মে কর-নিবাসী চিনাদের মালিকানাধীন অফশোর ট্রাস্ট নিয়ে নিয়ম আরও স্পষ্ট ও কঠোর হয়েছে। শেয়ার, সম্পত্তি বা অন্য সম্পদ ট্রাস্টে হস্তান্তর করে যে লাভ হয়, তার উপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত কর প্রযোজ্য হতে পারে। একই ভাবে ট্রাস্ট বা তার নিয়ন্ত্রণাধীন অফশোর সংস্থাগুলি থেকে পাওয়া আয়ের উপরও ২০ শতাংশ করের বিধান রয়েছে।
শুধু নতুন কর নয়, পুরনো বকেয়া নিয়েও পদক্ষেপ করছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে বকেয়া থাকা কিছু করের হিসাবও এর আওতায় আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লেট-ফি বা জরিমানা ছাড়াই করদাতাদের বকেয়া মেটানোর জন্য ৯০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে, যার মেয়াদ ২২ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা।
চিনা ধনী পরিবারগুলির কাছে অফশোর ট্রাস্ট দীর্ঘ দিন ধরেই সম্পদ ব্যবস্থাপনা, উত্তরাধিকার পরিকল্পনা এবং বিদেশি সংস্থায় মালিকানা ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নতুন নিয়মের ফলে অনেকে এই কাঠামো গুটিয়ে নেওয়া বা বদলে ফেলার কথা ভাবছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনের উল্লেখ রয়েছে।
এই করের চাপের একটি সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে নগদের জোগানে। কারও হাতে বিপুল শেয়ার বা সম্পত্তি থাকলেও কর দেওয়ার মতো নগদ অর্থ নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সম্পদ বিক্রি করা কিংবা সম্পত্তির বিপরীতে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
বিদেশে থাকা সম্পদের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ছে। চিনের বিভিন্ন শহরের কর কর্তৃপক্ষ বিদেশি বা অফশোর বিমা পলিসি থেকে পাওয়া আয় নিয়েও কর আদায় শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিদেশে অর্জিত আরও ধরনের আয়ের ক্ষেত্রেও এই নজরদারি ছড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এর পাশাপাশি চিন থেকে ধনী ব্যক্তিদের বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতাও আলোচনায় রয়েছে। ২০২২ সাল থেকেই এই প্রবণতা শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসার উপর সরকারি কড়াকড়ি, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং বিদেশে সম্পদ সরানোর আগ্রহ—এই সবকিছুকেই এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে এগুলি বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, সরকারি ভাবে প্রতিষ্ঠিত একক কারণ নয়।
ফলে এক দিকে রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা, অন্য দিকে ধনী বিনিয়োগকারীদের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন—দুই দিক থেকেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাৎক্ষণিক ভাবে সম্পদ বিক্রি, কর-পরামর্শের চাহিদা বৃদ্ধি এবং অফশোর সম্পদের কাঠামো বদলের মতো প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।