নেপথ্যের গল্প শোনালেন সৌরভ, এ বার লক্ষ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন!
ভারতের মাটিতে প্রথম বার খেলতে চলেছে ব্রাজ়িলের সিনিয়র পুরুষ ফুটবল দল। ৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতীতে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হবে ভারত। এই বড় ম্যাচের নেপথ্যে রয়েছেন কলকাতার বাঙালি সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। ‘বেস্ট অফ ইউ’ সংস্থার ভারতের ফাউন্ডার-ডিরেক্টর সৌরভ জানালেন, কী ভাবে কয়েক মাসের মধ্যে এই ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হল।
সৌরভের সঙ্গে ব্রাজ়িল ফুটবল ফেডারেশনের যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল গত জুনে। তাঁর সংস্থার মাদ্রিদ দফতরের সঙ্গে ব্রাজ়িলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগও কাজে আসে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রস্তাব থেকে ম্যাচ আয়োজন পর্যন্ত পথটা একেবারেই সহজ ছিল না।
সৌরভের কথায়, ব্রাজ়িলের প্রতিনিধিরা কলকাতায় এসে মাঠ, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেছেন। একটি পর্যায়ে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল যুবভারতীও পরিদর্শন করে। প্রবল বৃষ্টির পর মাঠের পরিস্থিতি খারাপ থাকলেও আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা মেটানো সম্ভব হয়। পরে ব্রাজ়িলের প্রতিনিধিরাও প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় এসেছিলেন।
কেন এত বড় দলকে ভারতে আনার উদ্যোগ? সৌরভের যুক্তি, ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির জন্য আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা দরকার। তাঁর মতে, তুলনামূলক শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেললে নিজেদের সীমাবদ্ধতা বোঝার পাশাপাশি উন্নতির তাগিদও তৈরি হয়। এ বার ব্রাজ়িলের পর উরুগুয়েকেও কলকাতায় দেখা যাবে ৬ অক্টোবর।
তবে ব্রাজ়িল ম্যাচ নিয়ে প্রাক্তন ফুটবলার ভাইচুং ভুটিয়ার আপত্তি নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সৌরভকে। তিনি পাল্টা জানান, মত প্রকাশ করার অধিকার সকলের রয়েছে। তাঁর দাবি, ভারতীয় দলের ফুটবলাররাই বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।
আগামী দিনে আরও বড় পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন সৌরভ। তাঁর দাবি, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের সঙ্গে তাঁদের ভাল যোগাযোগ রয়েছে। তাই ব্রাজ়িলের পর স্পেনকেও ভারতে খেলানোর চেষ্টা চলছে। এমনকি তাঁর অনুমান, সেই ম্যাচ হয়তো তিন-চার বছর অপেক্ষা না করেই হতে পারে।
ব্রাজ়িল ম্যাচের দিন কোনও আলাদা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান রাখার পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, এটি কোনও তারকা-শো নয়, একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ। ব্রাজ়িলের ২৬ সদস্যের দলেও ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনিয়া, এন্ড্রিক, মারকুইনহোসদের মতো পরিচিত নাম রয়েছে।
সৌরভ মনে করেন, ম্যাচের পাশাপাশি ভারতীয় ফুটবলের তৃণমূল স্তরেও দীর্ঘমেয়াদি কাজ জরুরি। তাঁর সংস্থা অতীতে তরুণ ফুটবলারদের বিদেশি ক্লাবে প্রশিক্ষণ ও খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও ভারতীয় প্রতিভাকে ইউরোপের ক্লাবে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
ব্রাজ়িলের মতো দলকে কলকাতায় আনার সাফল্যের পর তাই সৌরভের চোখে এখন আরও বড় স্বপ্ন—ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের ব্যবধানটা ধীরে ধীরে কমানো।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।