আইএসএফের মামলায় কমিশনকে প্রশ্ন হাই কোর্টের, রায় স্থগিত!
আইএসএফের ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শেষ হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টে। তবে সোমবার রায় ঘোষণা করেনি আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ রায়দান স্থগিত রেখেছে। শুনানিতে কমিশনের প্রতীক বরাদ্দের পদ্ধতি এবং তার আইনি ভিত্তি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।
আইএসএফের দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তারা ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করেছে। কিন্তু ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন সেই প্রতীক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-কে দিয়েছে। আইএসএফকে দেওয়া হয়েছে ‘আলমারি’ প্রতীক। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২১ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে যায় নওশাদ সিদ্দিকীর দল।
সোমবার শুনানিতে বিচারপতি রাও জানতে চান, কোন আইনি বিধানের ভিত্তিতে ‘খাম’ প্রতীক অন্য দলকে দেওয়া হল। এর আগে শুনানিতেও আদালত প্রশ্ন তুলেছিল, একই প্রতীক ব্যবহার করে আসা একটি দল যখন একই উপনির্বাচনে লড়ছে, তখন অন্য দলকে সেই প্রতীক দেওয়ার প্রয়োজন হল কেন। আদালত কমিশনকে ন্যায্য ও নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করার কথাও বলেছিল।
কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরীর যুক্তি, সাধারণ নির্বাচন এবং উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতীক বরাদ্দের পরিস্থিতি আলাদা। ‘খাম’ একটি ফ্রি সিম্বল এবং কোনও রাজনৈতিক দলের তার উপর স্থায়ী অধিকার নেই। প্রতীক বরাদ্দের চূড়ান্ত ক্ষমতা কমিশনের হাতেই।
এই ব্যাখ্যা নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি জানতে চান, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের আবেদনের ভিত্তিতে যদি প্রতীক দেওয়া হয়ে থাকে, তা হলে আইএসএফের আবেদন বিবেচনা করা হয়েছিল কি না এবং তার নথি কোথায়। একই সঙ্গে প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে ঠিক কোন আইনি ধারা অনুসরণ করা হয়েছে, তা-ও জানতে চাওয়া হয়।
আইএসএফের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, কমিশনের প্রতীক দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও সেই ক্ষমতা একপেশে ভাবে প্রয়োগ করা যায় না। অন্য দিকে কমিশনের বক্তব্য, ‘ফ্রি সিম্বল’ কোনও দলের সম্পত্তি নয় এবং উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতীক নতুন করে বরাদ্দ করা যায়। কমিশনের এক আধিকারিকও আগের শুনানিতে জানিয়েছিলেন, অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকে উপনির্বাচনে ফ্রি সিম্বলের তালিকা থেকে প্রতীক দেওয়া কমিশনের এখতিয়ার।
আইএসএফ ২০২১ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন নির্বাচনে ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করে এসেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও এই প্রতীকেই লড়েছিল দলটি। তবে উপনির্বাচনের আগে কমিশন সেই প্রতীক অন্য দলকে দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।
এখন হাই কোর্টের রায়ের দিকেই নজর। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত দুই দলের নির্বাচনী প্রচার এবং প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।