বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ব্যাঙ্কের টাকা সরানোর অভিযোগ, নৈহাটিতে পরিচারিকা ও তাঁর স্বামী গ্রেফতার

বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ব্যাঙ্কের টাকা সরানোর অভিযোগ! চার বছর ধরে বাড়ির অসুস্থ দুই সদস্যের দেখভাল করছিলেন। সেই সূত্রে পরিবারের অত্যন্ত বিশ্বাসভাজনও হয়ে উঠেছিলেন পরিচারিকা। অভিযোগ, সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই অবসরপ্রাপ্ত…

September 27, 2026
1 min read

বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ব্যাঙ্কের টাকা সরানোর অভিযোগ!

চার বছর ধরে বাড়ির অসুস্থ দুই সদস্যের দেখভাল করছিলেন। সেই সূত্রে পরিবারের অত্যন্ত বিশ্বাসভাজনও হয়ে উঠেছিলেন পরিচারিকা। অভিযোগ, সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই অবসরপ্রাপ্ত এক রেলকর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ধীরে ধীরে টাকা সরিয়েছেন তিনি এবং তাঁর স্বামী। শুধু টাকা নয়, ওই রেলকর্মীর বোনের গয়না আত্মসাতেরও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় নৈহাটি থানার পুলিশ পরিচারিকা এবং তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করেছে।

ঘটনাটি নৈহাটি পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেশন সংলগ্ন একটি রেল কোয়ার্টারের। সেখানে থাকতেন অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে থাকতেন বোন শিখা চক্রবর্তী। দু’জনেই অসুস্থ হওয়ায় তাঁদের নিয়মিত দেখাশোনার প্রয়োজন ছিল। সেই দায়িত্বই কয়েক বছর আগে দেওয়া হয়েছিল কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা বর্ণালী মৃধাকে।

পরিবারের দাবি, শারীরিক সমস্যার কারণে বিশ্বনাথ ও শিখার বাইরে যাতায়াত প্রায় বন্ধই ছিল। ফলে বাড়ির দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে নানা প্রয়োজনীয় বিষয় বর্ণালীর উপরেই নির্ভর করতে হত। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে তাঁকে যথেষ্ট বিশ্বাসও করতেন ওই প্রৌঢ় ও প্রৌঢ়া।

অভিযোগ, সেই বিশ্বাসের সুযোগেই বর্ণালীর হাতে পৌঁছে যায় বিশ্বনাথের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি। পরিবারের দাবি, তাঁর এটিএম কার্ড এবং সই করা চেকবইও পরিচারিকার কাছেই থাকত। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বর্ণালী এবং তাঁর স্বামী শম্ভু মৃধা দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প করে টাকা সরাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, পরে ব্যাঙ্কের লেনদেন খতিয়ে দেখে বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। তাঁদের অভিযোগ, আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা। পাশাপাশি শিখা চক্রবর্তীর বেশ কিছু সোনার গয়নাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারের।

এর পরেই নৈহাটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ বর্ণালী ও শম্ভুকে গ্রেফতার করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা বিশ্বনাথের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের নথি, চেকের ব্যবহার এবং এটিএম থেকে টাকা তোলার তথ্য পরীক্ষা করছেন। কোন সময়ে, কী ভাবে এবং কার মাধ্যমে টাকা সরানো হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

তবে পরিবারের তরফে করা টাকা ও গয়না আত্মসাতের অভিযোগের পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। পুলিশের তদন্ত এবং আর্থিক লেনদেনের নথি খতিয়ে দেখার পরই প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ ও ঘটনার বিস্তারিত ছবি স্পষ্ট হবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *