অটল ছিলেন অটলবিহারী!!
ভারতকে ঘিরে আমেরিকার নতুন করে বাণিজ্যিক চাপের আবহে ফিরে দেখা হচ্ছে ২৫ বছর আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৯৮ সালে পোখরানে পরমাণু পরীক্ষা করার পর ভারতের উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই সেই নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল হয় এবং ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন অবশিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলিও তুলে নেয়।
২০২৬ সালে পরিস্থিতি অবশ্য আলাদা। রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়েছে নতুন মার্কিন আইন। তবে আইনটি নিজে থেকেই ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপায়নি; সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মার্কিন প্রশাসনের হাতে রয়েছে।
১৯৯৮ সালের ঘটনাটির সূত্রপাত ভারতের পরমাণু পরীক্ষাকে ঘিরে। ১১ মে পোখরানে ‘অপারেশন শক্তি’-র আওতায় তিনটি পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায় ভারত। ১৩ মে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন কংগ্রেসকে জানান, ‘গ্লেন অ্যামেন্ডমেন্ট’-এর অধীনে ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় মার্কিন বিদেশি সহায়তা, সামরিক সরঞ্জাম ও পরিষেবা বিক্রি, সামরিক অর্থায়ন, সরকারি ঋণ ও ঋণের গ্যারান্টি এবং কিছু প্রযুক্তি রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে ভারতকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও আমেরিকা আপত্তি জানানোর অবস্থান নেয়। খাদ্য ও মানবিক সহায়তা অবশ্য এর বাইরে রাখা হয়েছিল।
তবে নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘদিন একই মাত্রায় কার্যকর ছিল না। ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রশাসন কয়েকটি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। পরিবেশ সংক্রান্ত কিছু কর্মসূচি, EXIM Bank, OPIC, IMET এবং কিছু ঋণ ও কৃষি-সংক্রান্ত সহায়তার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
এই সময় ভারতও আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। পরমাণু পরীক্ষাকে ঘিরে তীব্র মতপার্থক্য থাকলেও দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলতে থাকে। ২০০০ সালে বিল ক্লিন্টন ভারত সফর করেন—১৯৭৮ সালের পর কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেটিই ছিল প্রথম ভারত সফর।
এর পর ২০০১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ একটি প্রেসিডেনশিয়াল ডিটারমিনেশনের মাধ্যমে ভারতের উপর গ্লেন অ্যামেন্ডমেন্ট-সহ বিভিন্ন আইনের অধীনে থাকা অবশিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলি মকুব করেন। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের নথিতে বলা হয়েছে, ওই সিদ্ধান্তে ভারতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলি প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
তাই ঘটনাটিকে শুধু ‘ভারত আমেরিকাকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বাধ্য করেছিল’— এমন সরল সমীকরণে দেখা ঠিক হবে না। পরমাণু পরীক্ষা, ভারতের অবস্থান, কূটনৈতিক আলোচনা, আমেরিকার নীতিগত পরিবর্তন এবং দুই দেশের বদলে যাওয়া কৌশলগত স্বার্থ— সব মিলিয়েই সম্পর্কের গতিপথ পাল্টেছিল। পরবর্তী সময়ে দু’দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয় এবং ২০০৫-০৮ সালের অসামরিক পরমাণু সহযোগিতার পথ তৈরি হয়।
আজকের পরিস্থিতিতেও ১৯৯৮-২০০১ পর্বটি তাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে তখনকার পরমাণু-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এবং ২০২৬ সালের রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ঘিরে সম্ভাব্য শুল্ক— দু’টি সম্পূর্ণ এক ধরনের পদক্ষেপ নয়। বর্তমান মার্কিন আইনে ভারতকে নিয়ে সম্ভাব্য শুল্কের প্রশ্নটি এখনও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।