এক ভোটের ব্যবধানে পতন! ১৯৯৯ সালে কী ভাবে আস্থা ভোটে হেরে গিয়েছিল অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকার

অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকার! ভারতের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে ১৯৯৯ সালের ১৭ এপ্রিল একটি বিশেষ দিন। কারণ, সেদিন মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে লোকসভায় আস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা হারিয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর…

May 9, 2026
1 min read

অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকার!

ভারতের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে ১৯৯৯ সালের ১৭ এপ্রিল একটি বিশেষ দিন। কারণ, সেদিন মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে লোকসভায় আস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা হারিয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকার। ভারতীয় গণতন্ত্রে এমন নাটকীয় পরিণতি খুব কমই দেখা গিয়েছে।

অটলবিহারী বাজপেয়ী ছিলেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে ভারত পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও দেশের অবস্থান মজবুত হয়। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্কের জটিলতায় শেষ পর্যন্ত তাঁর সরকার টিকতে পারেনি।

১৯৯৮ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি একাধিক আঞ্চলিক দলকে নিয়ে এনডিএ জোট গঠন করে। সেই জোটে ছিল এআইএডিএমকে, বিজেডি, শিরোমণি আকালি দল-সহ আরও কয়েকটি দল। বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও জোটসঙ্গীদের সমর্থনে সরকার গড়ে বাজপেয়ী।

প্রথম থেকেই এই সরকার ছিল জোটনির্ভর। ফলে প্রতিটি শরিক দলের সমর্থন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর জয়ললিতার এআইএডিএমকে তখন কার্যত ‘কিংমেকার’-এর ভূমিকায় ছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদও পেয়েছিল তারা।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। জয়ললিতা কেন্দ্রের কাছে একাধিক দাবি জানান। তামিলনাড়ুর তৎকালীন ডিএমকে সরকার বরখাস্ত করার দাবিও তোলেন তিনি। বিজেপি সেই দাবি মানতে রাজি হয়নি। অন্য দিকে, বিজেপির একাংশের অভিযোগ ছিল, দুর্নীতির মামলায় চাপ কমানোর জন্যই জয়ললিতা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে এআইএডিএমকে সরকার থেকে সমর্থন তুলে নেয়। ফলে বাজপেয়ী সরকারকে লোকসভায় আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হয়।

১৭ এপ্রিল সেই ঐতিহাসিক ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। গোটা দেশের নজর ছিল সংসদের দিকে। সরকার টিকবে না পড়বে, তা নির্ভর করছিল হাতে গোনা কয়েকটি ভোটের উপর। ভোটের আগে নানা রাজনৈতিক নাটকও দেখা যায়। বহুজন সমাজ পার্টি প্রথমে সরকারের পাশে থাকার ইঙ্গিত দিলেও শেষ মুহূর্তে অবস্থান বদলায়।

অবশেষে ফল ঘোষণা হলে দেখা যায়, সরকারের পক্ষে পড়েছে ২৬৯ ভোট এবং বিপক্ষে ২৭০। মাত্র একটি ভোটের ব্যবধানে হেরে যায় বাজপেয়ী সরকার। সংসদে উপস্থিত অনেকেই তখন হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এত কম ব্যবধানে কোনও কেন্দ্রীয় সরকারের পতন কার্যত নজিরবিহীন।

লোকসভার স্পিকার গন্তী মোহন চন্দ্র বালযোগী তখন ভোট দেননি। নিয়ম অনুযায়ী, সমতা হলে তবেই স্পিকার ‘টাই-ব্রেকিং’ ভোট দিতে পারেন। ফলে সরকারকে বাঁচানোর আর কোনও সুযোগ ছিল না।

সরকার পড়ে যাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি কেআর নারায়ণন বিকল্প সরকার গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী সরকার গঠনের চেষ্টা করলেও পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দেশে ফের লোকসভা নির্বাচন ঘোষণা করা হয়।

তবে রাজনৈতিক ভাবে বাজপেয়ীর ভাবমূর্তি বরং আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অনেকের মতে, ক্ষমতা হারিয়েও তিনি যেভাবে মর্যাদা ও শান্তভাবে পরিস্থিতি সামলেছিলেন, তা তাঁকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। একই বছরের শেষে হওয়া নির্বাচনে এনডিএ আরও শক্তিশালী ভাবে ক্ষমতায় ফিরে আসে এবং বাজপেয়ী পূর্ণ মেয়াদে সরকার চালান।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *