EPFO-তে বেতনের সীমা বাড়লে কী বদলাবে?
প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আরও বেশি কর্মীকে আনতে EPFO-র বেতনসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাসিক বেতনের যে ঊর্ধ্বসীমা এত দিন ১৫ হাজার টাকা ছিল, তা ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব এসেছে। এই পরিবর্তন কার্যকর হলে কিছু বেসরকারি কর্মীর হাতে প্রতি মাসে পাওয়া বেতন কমতে পারে। তবে সেই টাকা চলে যাবে কর্মীরই অবসরকালীন সঞ্চয়ে।
বর্তমান ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট বেতনসীমার মধ্যে থাকা কর্মীদের EPF-এ কর্মচারীর পক্ষ থেকে সাধারণত বেসিক বেতন ও মহার্ঘ ভাতার নির্দিষ্ট অংশ জমা পড়ে। কর্মীর অংশের পাশাপাশি নিয়োগকর্তারও অবদান থাকে। ফলে হাতে পাওয়া টাকা কিছুটা কমলেও দীর্ঘমেয়াদে EPF-এ জমা বাড়ে।
২০ হাজার টাকা বেতনে কতটা কাটতে পারে?
ধরা যাক, কোনও কর্মীর প্রাসঙ্গিক EPF-যোগ্য বেতন ২০ হাজার টাকা। ১২ শতাংশ হারে কর্মচারীর অবদান ধরলে প্রতি মাসে প্রায় ২,৪০০ টাকা EPF-এ জমা পড়তে পারে। অর্থাৎ বছরে কর্মীর বেতন থেকে প্রায় ২৮,৮০০ টাকা কেটে প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা হবে।
একই ভাবে ২৫ হাজার টাকা বেতনের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ হিসাবে মাসে প্রায় ৩,০০০ টাকা এবং বছরে ৩৬,০০০ টাকা কর্মীর অংশ হিসেবে EPF-এ যেতে পারে। ফলে মাসের হাতে পাওয়া বেতন কমলেও সেই টাকা পুরোপুরি হারিয়ে যাচ্ছে না—তা কর্মীর অবসরকালীন সঞ্চয়ের অংশ হচ্ছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। EPF-এর হিসাব সব ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মোট বেতনের উপর নির্ভর করে না। কর্মীর বেসিক বেতন, ডিএ, সংস্থার নীতি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত কর্তনের অঙ্ক আলাদা হতে পারে।
পেনশনে কী প্রভাব পড়তে পারে?
EPF-এর পাশাপাশি কর্মীদের জন্য রয়েছে Employees’ Pension Scheme বা EPS। বর্তমানে পেনশনযোগ্য বেতনের নির্দিষ্ট সীমা ১৫ হাজার টাকা ধরে EPS-এ নিয়োগকর্তার অংশের ৮.৩৩ শতাংশ পর্যন্ত জমা দেওয়ার হিসাব করা হয়। সেই হিসাবে সর্বোচ্চ অবদান প্রায় ১,২৫০ টাকা মাসে।
বেতনসীমা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হলে এবং EPS-এর ক্ষেত্রেও একই সীমা কার্যকর হলে ৮.৩৩ শতাংশ হিসাবে মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ২,০৮৩ টাকা পেনশন তহবিলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ অবসরকালীন পেনশন তহবিলে জমার পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে EPF-এর বেতনসীমা বাড়লেই প্রত্যেক কর্মীর পেনশন স্বয়ংক্রিয় ভাবে একই অনুপাতে বেড়ে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। EPS-এর পেনশন নির্ধারণে পেনশনযোগ্য বেতন এবং যোগ্য চাকরির মেয়াদ-সহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। চূড়ান্ত সুবিধা নির্ভর করবে কার্যকর হওয়া নিয়মের উপর।
সুতরাং নতুন ব্যবস্থা চালু হলে কর্মীদের সামনে মূলত দু’টি দিক থাকবে—স্বল্পমেয়াদে হাতে পাওয়া বেতন কিছুটা কমার সম্ভাবনা, আর দীর্ঘমেয়াদে EPF ও সংশ্লিষ্ট অবসরকালীন সুবিধায় বেশি সঞ্চয়ের সুযোগ। তাই বেতনের স্লিপে মাসিক কর্তন বাড়লেও সেটিকে শুধু খরচ হিসেবে না দেখে অবসরকালীন সঞ্চয়ের অংশ হিসাবেও দেখা প্রয়োজন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।