এক বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই, চলে গেলেন ‘মৌচাক’-এর নীপা মিঠু মুখোপাধ্যায়

চলে গেলেন ‘মৌচাক’-এর নীপা মিঠু মুখোপাধ্যায়! প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। গত এক বছর ধরে…

September 21, 2026
1 min read

চলে গেলেন ‘মৌচাক’-এর নীপা মিঠু মুখোপাধ্যায়!

প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। গত এক বছর ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন অভিনেত্রী। মুম্বইয়েই চলছিল তাঁর চিকিৎসা। দীর্ঘদিন শহরটির বাসিন্দা ছিলেন তিনি। এমনকি দক্ষিণ কলকাতার বাড়িটিও বিক্রি করে দিয়েছিলেন। শেষ সময়ে দিদির কাছেই মুম্বইয়ে ছিলেন মিঠু।

বাংলা ছবির পর্দায় মিঠু মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ছিল স্বতন্ত্র। মিষ্টি মুখ, সহজ অভিনয় এবং চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের পরিচিত মুখ করে তুলেছিল। বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি ও ওড়িয়া ছবিতেও কাজ করেছিলেন তিনি। সাতের দশকের শুরু থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর অভিনয়জীবনে বেশ কিছু মনে রাখার মতো চরিত্র রয়েছে।

১৯৭১ সালে চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় পা রাখেন মিঠু। তাঁর বিপরীতে ছিলেন সমিত ভঞ্জ। তবে তাঁকে পরিচিতি এনে দেয় ১৯৭৩ সালের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’। দীনেন গুপ্ত পরিচালিত ওই ছবিতে আলিবাবার পরিচারিকা মর্জিনার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। দেবরাজ রায়ের বিপরীতে মিঠুর অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছিল।

এর পর ‘নিশিকন্যা’য় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করেন মিঠু। তবে তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় মাইলফলক হয়ে ওঠে ১৯৭৪ সালের ‘মৌচাক’। অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের এই ছবিতে নীপা চরিত্রে মিঠু এবং সিতেশের ভূমিকায় রঞ্জিত মল্লিকের জুটি দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়। একই ছবিতে ছিলেন উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুপকুমার, চিন্ময় রায় এবং রবি ঘোষের মতো শিল্পীরাও।

‘মৌচাক’-এর পর রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’য় ফের জুটি বাঁধেন তিনি। ‘কবি’, ‘চাঁদের কাছাকাছি’, ‘হোটেল স্নো ফক্স’ এবং ‘প্রতিমা’-র মতো ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ‘প্রতিমা’য় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিঠু।

বাংলার পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন অভিনেত্রী। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’-এর মাধ্যমে হিন্দি ছবিতে অভিষেক হয় তাঁর। শত্রুঘ্ন সিন্‌হার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ছবিতে রাজ কপূরও ছিলেন। পরে বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ এবং ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’-তেও অভিনয় করেন মিঠু।

অভিনয়ের পরিধি খুব দীর্ঘ না হলেও সেই সময়ের একাধিক জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দেবরাজ রায়, শত্রুঘ্ন সিন্‌হা, রাজ কপূর থেকে শুরু করে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, অনুপকুমার—তাঁদের সঙ্গে একই পর্দায় দেখা গিয়েছে মিঠুকে।

অনেক আগেই অভিনয় থেকে সরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ‘মৌচাক’-এর নীপা কিংবা ‘মর্জিনা আবদুল্লা’-র মর্জিনা হয়ে দর্শকের স্মৃতিতে থেকে গিয়েছিলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। এক বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর তাঁর প্রয়াণে বাংলা ছবির একটি পরিচিত মুখের অধ্যায় শেষ হল।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *