রাত হলেই পায়ে সুচ ফোটার মতো যন্ত্রণা? ৪টি রক্তপরীক্ষায় মিলতে পারে কারণ

রাত হলেই পায়ে সুচ ফোটার মতো যন্ত্রণা? দিনভর কাজের ব্যস্ততার পর রাতে বিছানায় শুতে না শুতেই পায়ের তলায় শুরু হল জ্বালা, ঝিঁঝি বা সুচ ফোটার মতো অনুভূতি। কখনও মনে হতে…

September 18, 2026
1 min read

রাত হলেই পায়ে সুচ ফোটার মতো যন্ত্রণা?

দিনভর কাজের ব্যস্ততার পর রাতে বিছানায় শুতে না শুতেই পায়ের তলায় শুরু হল জ্বালা, ঝিঁঝি বা সুচ ফোটার মতো অনুভূতি। কখনও মনে হতে পারে, ত্বকের ভিতর যেন অসংখ্য পিঁপড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। অস্বস্তি এতটাই বাড়ে যে ঘুম আসতেও সমস্যা হয়। মাঝে মধ্যে এমন হওয়া খুব অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু নিয়মিত হলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভাল।

চিকিৎসক অন্বিত ভট্টাচার্যের মতে, পায়ে এই ধরনের অনুভূতির পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। দীর্ঘক্ষণ শরীরের কোনও অংশে চাপ পড়লে সাময়িক ভাবে স্নায়ুর উপর চাপ তৈরি হয়ে ‘পিনস অ্যান্ড নিডলস’-এর মতো অনুভূতি হতে পারে। সাধারণত চাপ সরে গেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু বার বার এমন হলে অন্য কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

এর অন্যতম কারণ হতে পারে ডায়াবিটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকা। বেশি দিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে পায়ের সূক্ষ্ম স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি ডায়াবিটিস প্রথম ধরা পড়ার সময়ও কিছু মানুষের স্নায়ুতে ক্ষতির লক্ষণ থাকতে পারে। ফলে পায়ে জ্বালা, ঝিঁঝি বা সুচ ফোটার মতো ব্যথা দেখা দিতে পারে।

তবে শুধু ডায়াবিটিস নয়, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি থেকেও স্নায়ুজনিত সমস্যা হতে পারে। একই ভাবে থাইরয়েডের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত মদ্যপানও পায়ে অস্বাভাবিক অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন কিছু ধরনের গ্যাস বা অ্যাসিডিটির ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রেও বি১২-এর মাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা চিকিৎসকরা বিবেচনা করেন।

রাতে সমস্যাটা বেশি বোঝা যায় কেন?

দিনের বেলা হাঁটাচলা, কাজকর্ম ও নানা ব্যস্ততার মধ্যে শরীরের এই অস্বস্তির দিকে মনোযোগ কম থাকে। রাতে চারপাশ শান্ত হলে মস্তিষ্ক ওই অস্বাভাবিক স্নায়বিক অনুভূতিগুলিকে বেশি খেয়াল করতে পারে। ফলে জ্বালা বা ঝিঁঝির সমস্যা তুলনামূলক বেশি মনে হতে পারে।

কোন কোন রক্তপরীক্ষা করা যেতে পারে?

এ ধরনের সমস্যা বার বার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কয়েকটি সাধারণ পরীক্ষা করা যেতে পারে—

১. ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও HbA1c: ডায়াবিটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পরিস্থিতি বোঝার জন্য।

২. ভিটামিন B12: বি১২-এর ঘাটতি রয়েছে কি না তা জানতে।

৩. থাইরয়েড পরীক্ষা: বিশেষ করে TSH-এর মতো পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েডের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়।

৪. কিডনি ফাংশন টেস্ট: কিডনির কার্যক্ষমতায় কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য।

তবে এই পরীক্ষাগুলি সবার জন্য একসঙ্গে প্রয়োজন নাও হতে পারে। পায়ে বার বার ঝিঁঝি, জ্বালা, অসাড়তা বা ব্যথা হলে চিকিৎসক উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ঠিক করবেন। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে, দ্রুত বাড়লে বা পায়ে দুর্বলতা ও অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *