ঝিরামঘাটি হামলা মামলায় ১০ মাওবাদীর মৃত্যুদণ্ড!
১৩ বছর আগে ছত্তীসগঢ়ের বস্তারের ঝিরামঘাটিতে কংগ্রেস নেতাদের কনভয়ে ভয়াবহ মাওবাদী হামলার মামলায় বড় রায় ঘোষণা করল আদালত। বুধবার জগদলপুরের এনআইএ বিশেষ আদালত মামলায় দোষী সাব্যস্ত ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বরই তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। বুধবার সাজা ঘোষণা করা হয়।
২০১৩ সালের ২৫ মে বস্তারের ঝিরামঘাটিতে কংগ্রেসের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে নেতাদের কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালায় মাওবাদীরা। ২২১ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হামলায় তৎকালীন ছত্তীসগঢ় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নন্দকুমার পটেল, তাঁর ছেলে দীনেশ পটেল, তৎকালীন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্ল-সহ একাধিক নেতা নিহত হন। প্রাক্তন বিধায়ক উদয় মুদলিয়ারও নিহতদের তালিকায় ছিলেন।
হামলার সময় ঘটনাস্থলেই ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আইইডি বিস্ফোরণে অন্তত ৩৫ জন আহত হন। পরে তাঁদের মধ্যে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়। ফলে ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৭। হামলার পর নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, ওয়াকি-টকি, মোবাইল ফোন-সহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করার অভিযোগও ওঠে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার তদন্তভার নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে জগদলপুরের বিশেষ আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। প্রথম চার্জশিটে ৯ জনের নাম ছিল। পরে অতিরিক্ত চার্জশিটের মাধ্যমে আরও ৩০ জনের নাম যুক্ত করা হয়। মামলায় বিস্ফোরক আইন-সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় আদালতে মোট ১০১ জন সাক্ষীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করা হয়েছে। এত বছর ধরে চলা মামলার শুনানি শেষে ৫ সেপ্টেম্বর আদালত ১০ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। তবে সেদিনই সাজা ঘোষণা না করে তা মুলতুবি রাখা হয়েছিল।
অবশেষে বুধবার সাজা ঘোষণা করল এনআইএ-র বিশেষ আদালত। ১০ জনের প্রত্যেককেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০১৩ সালের সেই হামলায় নিহত কংগ্রেস নেতা-কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মৃত্যুর ১৩ বছর পর আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে এল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।