‘হ্যান্ডলুমকে এখন না বাঁচালে পরে জাদুঘরেই দেখতে হবে’!
শান্তিপুর, ফুলিয়া কিংবা ধনেখালির তাঁতঘরে আজও শোনা যায় তাঁতের খটখট শব্দ। সেই শব্দের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার দীর্ঘ ঐতিহ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবার নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। নতুন প্রজন্মের অনীহা, পরিশ্রমের তুলনায় কম আয় এবং বাজারের পরিবর্তনের কারণে হাতে বোনা কাপড়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতেই হ্যান্ডলুম শিল্পকে বাঁচানোর বার্তা দিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
পুজোর আগে হাতে বোনা শাড়ির প্রতি মানুষের আগ্রহ ফেরাতে সিমা গ্যালারিতে শুরু হচ্ছে প্রাক্-পুজো প্রদর্শনী ‘আর্ট ইন লাইফ’। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে প্রদর্শনী চলবে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত। শনিবার সকালে তার উদ্বোধন করেন অগ্নিমিত্রা। অনুষ্ঠানে এসে নিজের পুরনো স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অগ্নিমিত্রার কথায়, পোশাকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় পুজোর আগে সিমার এই প্রদর্শনীর জন্য তিনি অপেক্ষা করতেন। প্রতি বছর নতুন কিছু দেখার সুযোগ মিলত। এ বার সেই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করতে পেরে তাঁর মনে হয়েছে, যেন নিজের পুরনো জায়গাতেই ফিরে এসেছেন।
এ বারের প্রদর্শনীতে শুধু বাংলার তাঁত নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাতে বোনা পোশাকের সম্ভার রয়েছে। বাংলার টাঙাইলের পাশাপাশি থাকছে বেনারসের কাতান সিল্ক, তামিলনাড়ুর কাঞ্জিপুরম, ওড়িশার সম্বলপুরী এবং ইক্কত। অর্থাৎ পুজোর কেনাকাটায় দেশীয় হ্যান্ডলুমের নানা বৈচিত্র এক ছাদের নীচেই দেখতে পারবেন ক্রেতারা।
তবে প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য শুধু বিক্রি বাড়ানো নয়, হ্যান্ডলুমের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর করা। অগ্নিমিত্রার মতে, হাতে বোনা একটি শাড়ি কেনার অর্থ শুধু একটি পোশাক কেনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের জীবিকা এবং একটি ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার দায়। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পেশায় আসতে চাইছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর আশঙ্কা, সময় থাকতে হ্যান্ডলুম শিল্পকে রক্ষা করা না গেলে এক দিন এই শিল্পের নকশা ও কারুকাজ শুধুই জাদুঘরে দেখতে হবে। তাই ক্রেতাদেরও তাঁদের কেনাকাটার মাধ্যমে তাঁতিদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান তিনি।
তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতেও এ বার বিশেষ পরিকল্পনা করেছে সিমা। শুধু শাড়ির মধ্যে প্রদর্শনীকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। রয়েছে ড্রেস, জ্যাকেট, ক্রপ টপ, কোঅর্ড সেট, কাফতান, স্কার্ফ, ওড়না-সহ নানা পোশাক। ডিজিটাল প্রিন্টের নকশাও এ বার বিশেষ আকর্ষণ। তরুণ শিল্পীদের কাজকে দেওয়া হয়েছে আলাদা গুরুত্ব।
সিমা গ্যালারির ডিরেক্টর রাখি সরকারের মতে, হ্যান্ডলুমকে তরুণদের কাছে ‘সেকেলে’ ভাবমূর্তি থেকে বের করে আনতে হবে। পরিবেশবান্ধব এবং ‘স্লো ফ্যাশন’-এর সঙ্গে হ্যান্ডলুমের সম্পর্ক তুলে ধরতে পারলে সেটিই তরুণ প্রজন্মের কাছে নতুন ধরনের স্টাইল স্টেটমেন্ট হয়ে উঠতে পারে।
শুধু মহিলাদের জন্য নয়, পুরুষদের জন্যও থাকছে নানা আয়োজন। ষষ্ঠীর শার্ট থেকে অষ্টমীর পাঞ্জাবি— তসর ও গরদের পাঞ্জাবির পাশাপাশি পাওয়া যাবে বিভিন্ন পোশাকের কাপড়। থাকছে ঘর সাজানোর সামগ্রী, আসবাব, রুপোর গয়না, ব্যাগ এবং নানা ব্যবহার্য সামগ্রীও।
অর্থাৎ এ বারের ‘আর্ট ইন লাইফ’ শুধু পুজোর কেনাকাটার প্রদর্শনী নয়। শিল্পকে গ্যালারির চার দেওয়ালের বাইরে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ারই যেন একটি প্রয়াস।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।