মায়ানমার সীমান্তে মাদক পাচারের বড় চক্র?
উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত এলাকায় ফের সক্রিয় আন্তঃসীমান্ত পাচারচক্রের হদিস পেল মিজ়োরাম পুলিশ। টানা তিন দিনের অভিযানে রাজ্যের তিন জেলায় বিপুল পরিমাণ মাদক এবং প্রায় সাড়ে তিন টন সুপুরি উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের মধ্যে পাঁচ জন মায়ানমারের নাগরিক।
বৃহস্পতিবার মিজ়োরাম পুলিশ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত চাম্ফাই, সাইতুয়াল এবং কোলাসিব জেলার বিভিন্ন রাস্তায় নাকা তল্লাশি চালানো হয়। সন্দেহজনক গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির সময় একের পর এক মাদক উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসে।
চাম্ফাই জেলার খাঙ্কাউন চেকপোস্টে একটি গাড়ি থেকে মায়ানমারের এক নাগরিকের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়। অন্য একটি গাড়িতে মায়ানমারের আরও এক যাত্রীর কাছ থেকে হেরোইন মেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর পর মঙ্গলবার সাইতুয়াল জেলার কেইফাং এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মায়ানমার থেকে আসা দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ১২.৭৪৬ কেজি মেথামফেটামিন উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের হিসাবে, ওই মাদকের আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।
কোলাসিব জেলাতেও মিলেছে বিপুল পরিমাণ মাদক। সব মিলিয়ে তিন দিনের অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ১৪ কোটি টাকা বলে পুলিশের দাবি। শুধু মাদক নয়, একটি ট্রাক থেকে ৩,৩৬০ কেজি শুকনো সুপুরিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ৪২টি বস্তায় ওই সুপুরি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পুলিশের দাবি, ট্রাকচালকের কাছে বৈধ বাণিজ্য লাইসেন্স, পরিবহণের অনুমতিপত্র বা প্রয়োজনীয় নথি ছিল না। ফলে সুপুরি পাচারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধৃত পাঁচ মায়ানমারের নাগরিকের সঙ্গে সে দেশের কোনও জঙ্গি সংগঠন বা অন্য কোনও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সীমান্তের ওপার থেকে মাদক কী ভাবে মিজ়োরামে ঢুকছে এবং এর পিছনে আরও কারা রয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
টানা অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় পাচারচক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশের নজর এখন এই চক্রের মূল হোতাদের দিকে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।