জ্বর-গলাব্যথা নেই, তবু শরীরে জোর ফিরছে না? সোয়াইন ফ্লু সেরে যাওয়ার পর ক্লান্তির কারণ জানালেন চিকিৎসক

জ্বর-গলাব্যথা নেই! সোয়াইন ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে সেরে উঠেছেন। জ্বর নেই, গলাব্যথাও কমে গিয়েছে। কিন্তু শরীর যেন এখনও আগের মতো চনমনে নয়। অল্প কাজেই ক্লান্ত লাগছে, দুর্বল বোধ হচ্ছে। এমনটা…

September 2, 2026
1 min read

জ্বর-গলাব্যথা নেই!

সোয়াইন ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে সেরে উঠেছেন। জ্বর নেই, গলাব্যথাও কমে গিয়েছে। কিন্তু শরীর যেন এখনও আগের মতো চনমনে নয়। অল্প কাজেই ক্লান্ত লাগছে, দুর্বল বোধ হচ্ছে। এমনটা হলে খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। সংক্রমণ সেরে যাওয়ার পরও শরীরকে পুরোপুরি স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে সোয়াইন ফ্লুয়ের সংক্রমণ নিয়ে আলোচনা চলছে। আচমকা জ্বর, কাঁপুনি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা—ইনফ্লুয়েঞ্জার পরিচিত উপসর্গ। সংক্রমণ গুরুতর হলে শ্বাসনালিতে প্রদাহ তৈরি হয়ে শ্বাসকষ্টও হতে পারে। তবে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর বক্তব্য, সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।

কিন্তু অসুখের মূল উপসর্গ কমে গেলেও দুর্বলতা থেকে যেতে পারে। চিকিৎসক অঙ্কিতকুমার সিংহের ব্যাখ্যা, ক্লান্তি থাকলেই যে শরীরে এখনও সংক্রমণ রয়েছে, এমন নয়। সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শরীরের যথেষ্ট শক্তি খরচ হয়। ফলে রোগ সেরে যাওয়ার পরেও সেই ঘাটতি পূরণ হতে সময় লাগে।

আসলে শরীরে ভাইরাস ঢুকলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে গিয়ে শরীরে নানা ধরনের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সেই সময় জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথার পাশাপাশি অনেকের খাওয়ার ইচ্ছাও কমে যায়। ফলে শরীর পর্যাপ্ত খাবার ও তরল না পেলে দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে।

তাই জ্বর কমে গেলেই শরীর এক-দু’দিনের মধ্যে পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সংক্রমণের তীব্রতা এবং শরীরের উপর তার ধকল কতটা ছিল, তার উপর নির্ভর করে সুস্থ হতে সময় লাগে। ভাইরাল জ্বর বা সোয়াইন ফ্লুয়ের পর অনেকের শরীরে শক্তি পুরোপুরি ফিরতে এক থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

দ্রুত সুস্থ হতে কী করবেন?

এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম। শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রমে না ফেলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফিরতে হবে। পর্যাপ্ত জল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর তরল পান করাও জরুরি।

খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন ডিম, দুধ, পনির, মুরগির মাংসের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। পাশাপাশি টাটকা ফল ও সব্জি খাওয়া দরকার। অতিরিক্ত তেল-মশলা এড়িয়ে সহজপাচ্য, ঘরোয়া খাবারই এই সময়ে বেশি উপযোগী।

তবে দুই-তিন সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পরেও যদি ক্লান্তি বা দুর্বলতা একেবারেই না কমে, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা নতুন কোনও উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভাল।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *