ভাত-ঘি বাদ না দিয়েও ওজন কমানো?
ওজন কমাতে ভাত, ঘি কিংবা পছন্দের খাবার একেবারে বাদ দিতেই হবে— এমন ধারণা অনেকেরই। কিন্তু পুষ্টিবিদ নেহার দাবি, কঠোর ডায়েট বা উপোস না করেও জীবনযাপনে কয়েকটি পরিবর্তন এনে তিনি তিন মাসে প্রায় ২২ কেজি ওজন কমিয়েছেন। তাঁর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভাত ও পরিমিত ঘিও ছিল।
তবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য একই ফল দেবে এমন নিয়ম হিসেবে দেখা ঠিক নয়। দ্রুত ওজন কমানোর পরিকল্পনা করার আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যে ৯টি অভ্যাসের কথা বলেছেন নেহা
১. সকালে জল দিয়ে দিন শুরু
লেবু বা জিরে মেশানো জল কিংবা মেথি-মৌরি ভেজানো জল দিয়ে দিন শুরু করতেন তিনি। তবে ‘ডিটক্স ওয়াটার’ শরীরের টক্সিন বিশেষ ভাবে বের করে দেয়— এমন দাবির শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
২. নির্দিষ্ট সময়ে খাবার
দিনে তিন বার মূল খাবার খাওয়ার অভ্যাস করেছিলেন। বার বার অল্প অল্প করে খাওয়ার বদলে খাবারের সময়ের মধ্যে বিরতি রাখতেন।
৩. ভাত-ডাল-তরকারি বাদ নয়
প্যাকেটজাত খাবারের পরিবর্তে ঘরে তৈরি ভাত, ডাল, সবজি, মাছ বা মাংস রাখতেন খাদ্যতালিকায়। ভাতের সঙ্গে পরিমিত ঘিও খেতেন।
৪. স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
ঘি, বাদাম ও তিলের মতো খাবার পরিমাণ মেনে রাখতেন। তবে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও ক্যালোরি-সমৃদ্ধ, তাই অতিরিক্ত খাওয়া ওজন কমানোর পথে বাধা হতে পারে।
৫. টক দই ও ফারমেন্টেড খাবার
টক দইয়ের মতো খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতেন। দই থেকে প্রোটিন এবং কিছু ক্ষেত্রে উপকারী জীবাণু বা প্রোবায়োটিক পাওয়া যেতে পারে।
৬. খাবারের পরে হাঁটা
ভারী খাবারের পর প্রায় ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করেছিলেন। নিয়মিত হাঁটা দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
৭. ৮০/২০ নিয়ম
খাবারের প্রায় ৮০ শতাংশ পুষ্টিকর রাখার পাশাপাশি ২০ শতাংশ নিজের পছন্দের খাবারের জন্য রাখতেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে খাবারের পরিকল্পনা মেনে চলা সহজ হতে পারে।
৮. অ্যাপল সাইডার ভিনিগার
খাবারের আগে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মেশানো জল খেতেন বলে জানিয়েছেন। তবে এটি খেলে দ্রুত ওজন কমে বা খাবারের ক্যালোরি ‘ঝরে যায়’— এমন দাবি নিশ্চিত ভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। সরাসরি ভিনিগার পান করাও ক্ষতিকর হতে পারে।
৯. পুষ্টিকর ও প্রদাহনিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাবার
ফল, শাকসবজি, মাছ, ডিম, বাদাম ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ সুষম খাবার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
আসল বিষয় ক্যালোরি ও ধারাবাহিকতা
ভাত বা ঘি একেবারে বাদ দেওয়ার চেয়ে মোট খাবারের পরিমাণ, পুষ্টির ভারসাম্য এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ঘুম, মানসিক চাপ এবং ব্যক্তির বয়স, শারীরিক গঠন ও কোনও স্বাস্থ্যগত সমস্যাও ওজন কমানোর ফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
তাই নেহার ২২ কেজি ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা অনুপ্রেরণা হতে পারে, কিন্তু একই সময়ে একই পরিমাণ ওজন কমানোর লক্ষ্য সবার জন্য নিরাপদ বা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। বিশেষ করে খুব দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা না করে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা করাই বেশি নিরাপদ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।