জামশেদপুরকে হারিয়ে ডুরান্ডের সেমিফাইনালে মোহনবাগান!
ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল মোহনবাগান। তবে জয়টা এল একেবারে সহজে নয়। সোমবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নির্ধারিত সময়ে ১-১ ড্র হওয়ার পর ১৮ শটের টাইব্রেকারে জামশেদপুর এফসি-কে ৯-৮ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিল সবুজ-মেরুন।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। দ্বিতীয় মিনিটে জামশেদপুরের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন সাহাল আবদুল সামাদ। রাশিথোইয়ের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রাজিচ তা বাড়িয়ে দেন সাহালকে। পোস্টের কোণে নিখুঁত শটে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ডুরান্ডে এটি তাঁর পঞ্চম গোল।
তবে গোল খাওয়ার পরেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি মোহনবাগানের হাতে ছিল না। বরং বল ধরে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করছিল জামশেদপুর। ১৬ মিনিটে রিয়াতার পাস থেকে আমন সিকে শট নিলেও তা আটকে দেন মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে সমতা ফেরায় জামশেদপুর। রাশিথোইয়ের দূরপাল্লার শট কোনও মতে ঠেকিয়েছিলেন বিশাল। কিন্তু ফিরতি বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি তিনি। সেই সুযোগে গোল করেন দেবেন্দ্র। গোলের পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিখ্যাত ভঙ্গিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা নেই
বিরতির পর আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ানোর চেষ্টা করে মোহনবাগান। ডান প্রান্তে সামির জেলকোভিচ ও অভিষেক সিংহের বোঝাপড়াও বেশ ভাল হচ্ছিল। ৬৫ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগ পেয়েছিলেন সাহাল। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে জামশেদপুর গোলরক্ষক আলবিনো গোমেজ়কে সামনে পেয়ে সতীর্থের দিকে বল বাড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফাঁকা জায়গায় মোহনবাগানের কোনও ফুটবলার না থাকায় সুযোগ নষ্ট হয়।
শেষ দিকে দু’দলই গোলের চেষ্টা করলেও আর জাল কাঁপাতে পারেনি। ফলে ১-১ স্কোরলাইনেই ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
১৮ শটের পর ভাগ্য খুলল মোহনবাগানের
টাইব্রেকারে প্রথম আটটি শট পর্যন্ত দুই দলই নিখুঁত ছিল। জামশেদপুরের হয়ে একে একে গোল করেন রিয়াতা, রেনিয়ার, আমন সিকে, অভিষেক, প্রণয় হালদার, প্রভাত লাকরা, প্রতীক চৌধরী এবং বারলা।
মোহনবাগানের হয়ে জবাব দেন রাহুল বেকে, সামির জেলকোভিচ, শুভাশিস বসু, জেমি ম্যাকলারেন, কিয়ান নাসিরি, অনিরুদ্ধ থাপা, আলবের্তো রদ্রিগেজ় এবং সুহেল বাট।
স্কোর ৮-৮ হওয়ার পর নবম শটে আসে নাটকীয় মুহূর্ত। জামশেদপুরের মামার শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ভাবে বাঁচিয়ে দেন বিশাল কাইথ। এরপর মোহনবাগানের হয়ে নবম শটে গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলে দেন অভিমিতেই।
শেষ পর্যন্ত ১-১ থেকে টাইব্রেকারে ৯-৮ জয়— কঠিন লড়াইয়ের পর ডুরান্ড কাপের শেষ চারে পৌঁছে গেল মোহনবাগান।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।