‘চোখেমুখে ক্লান্তি দেখেই সেদিন শুটিং বন্ধ করে দিয়েছিলেন রাজাদা’, স্মৃতিচারণে পাওলি দাম

‘চোখেমুখে ক্লান্তি দেখেই সেদিন শুটিং বন্ধ করে দিয়েছিলেন রাজাদা’! প্রয়াত পরিচালক রাজা সেনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া টলিপাড়ায়। খবর শুনে মনখারাপ অভিনেত্রী পাওলি দামেরও। রাজা সেনের সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা দু’টি…

August 16, 2026
1 min read

‘চোখেমুখে ক্লান্তি দেখেই সেদিন শুটিং বন্ধ করে দিয়েছিলেন রাজাদা’!

প্রয়াত পরিচালক রাজা সেনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া টলিপাড়ায়। খবর শুনে মনখারাপ অভিনেত্রী পাওলি দামেরও। রাজা সেনের সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা দু’টি ছবিতে— ‘তিন মূর্তি’ এবং ‘মায়ামৃদঙ্গ’। প্রয়াত পরিচালকের সঙ্গে কাজের সেই দিনগুলির স্মৃতিই ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী।

পাওলির কথায়, রবিবার সকালে এমন একটি দুঃসংবাদ শুনতে হবে, তিনি ভাবেননি। আনন্দবাজার ডট কমের কাছ থেকেই প্রথম রাজা সেনের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তিনি। খবরটি শোনার পরই ফিরে আসে পরিচালকের সঙ্গে কাজের নানা স্মৃতি।

‘তিন মূর্তি’ দিয়ে শুরু

২০০৯ সালে রাজা সেনের ‘তিন মূর্তি’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন পাওলি। তখনও অভিনয়জগতে তিনি তুলনামূলক নতুন। কাজ করতে করতেই শেখার চেষ্টা করছিলেন। রাজা সেনের সঙ্গে সেই ছবিতে কাজ তাঁর জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার অভিজ্ঞতা।

এর কয়েক বছর পর, ২০১৬ সালে আবার রাজা সেনের ‘মায়ামৃদঙ্গ’ ছবিতে কাজের সুযোগ পান পাওলি। তত দিনে অভিনেত্রী হিসাবে কিছুটা পরিণত হয়েছেন তিনি। সেই সময় বাংলাদেশে শাকিব খানের সঙ্গে ‘সত্তা’ ছবির শুটিং চলছিল তাঁর। ব্যস্ততার মধ্যেই ‘মায়ামৃদঙ্গ’-এর কাজের জন্য বাংলাদেশ থেকে ফিরে এসেছিলেন।

চোখেমুখে ক্লান্তি দেখেই বন্ধ শুটিং

সেই সময়ের একটি ঘটনা বিশেষ ভাবে মনে রেখেছেন পাওলি। বাংলাদেশে দিন-রাত এক করে শুটিং করার পর রাজা সেনের ছবির কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল।

পাওলির কথায়, রাজা সেনের নজর তা এড়ায়নি। অভিনেত্রীর শারীরিক ক্লান্তি বুঝতে পেরে তিনি সেদিনই শুটিং বন্ধ করে দেন এবং জানান, পরের দিন কাজ হবে।

পাওলির কাছে পরিচালকের এই আচরণ ছিল গভীর সহানুভূতির পরিচয়। তাঁর মতে, এখনকার ব্যস্ত শুটিংয়ের পরিবেশে এমন মানবিক ছাড় পাওয়া কঠিন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপের মধ্যেও একজন শিল্পীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা ভাবা অত্যন্ত জরুরি।

পরিচালক হওয়ার পাশাপাশি ‘মানুষ’ রাজা

পাওলির স্মৃতিতে রাজা সেন শুধু জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক নন, একজন অত্যন্ত মানবিক মানুষও। তাঁর মতে, রাজাদার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ছিল, কিন্তু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতেন না। বরং সবার মতামত শুনেই সিদ্ধান্ত নিতেন।

শুটিং সেটে পোশাকশিল্পী থেকে প্রসাধনীশিল্পী—সকলের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করতেন তিনি। ফলে তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে একজন পরিচালককে বোঝার পাশাপাশি মানুষ হিসাবেও অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছিল পাওলির।

‘এমন মানুষের প্রয়োজন আজও’

গত বছর টরন্টোয় রাজা সেনের সঙ্গে শেষ বার দেখা হয়েছিল পাওলির। তখনও পরিচালকের মধ্যে একই আন্তরিকতা অনুভব করেছিলেন তিনি। এতটা অসুস্থ ছিলেন, তা জানা ছিল না তাঁর।

রাজা সেনের চলে যাওয়া তাই অভিনেত্রীর কাছে শুধু একজন পরিচালকের বিদায় নয়, একজন সহমর্মী মানুষের হারিয়ে যাওয়া। তবে তাঁর ছবির মাধ্যমেই রাজা সেনকে সারাজীবন মনে রাখতে চান পাওলি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *