কালীঘাটের পর ঋতব্রত শিবিরেও কুণাল, ‘দুই নৌকায় পা’ বিতর্কে বিধায়কের সাফ জবাব

কালীঘাটের পর ঋতব্রত শিবিরেও কুণাল! স্বাধীনতা দিবসের সকালে তৃণমূলের দুই ভিন্ন শিবিরের কর্মসূচিতেই দেখা গেল বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। প্রথমে তপসিয়ায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। সেখান…

August 15, 2026
1 min read

কালীঘাটের পর ঋতব্রত শিবিরেও কুণাল!

স্বাধীনতা দিবসের সকালে তৃণমূলের দুই ভিন্ন শিবিরের কর্মসূচিতেই দেখা গেল বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। প্রথমে তপসিয়ায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। সেখান থেকে ফেরার পথে মেট্রোপলিটনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের কর্মসূচিতেও আচমকা হাজির হন কুণাল। শুধু উপস্থিত থাকাই নয়, সেখানে জাতীয় পতাকায় শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতাও করেন তিনি। আর তার পরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা— তবে কি তৃণমূলের দুই শিবিরের সঙ্গেই সমান দূরত্ব বজায় রাখছেন কুণাল?

তপসিয়ার কর্মসূচিতে কুণালের সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ কালীঘাটপন্থী শাখা সংগঠনের নেতারা। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পুরনো তৃণমূল ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি।

এর পর নিজের বিধানসভা এলাকার রাস্তা দিয়ে ফেরার সময় মেট্রোপলিটনের কাছে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের কর্মসূচি দেখতে পান কুণাল। তাঁর বক্তব্য, দলের নাম ব্যবহার করে সেখানে পতাকা উত্তোলন হচ্ছে এবং অনেক নেতা-কর্মী উপস্থিত রয়েছেন দেখে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। পরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায়, বিপ্লব মিত্রদের অনুরোধে সেখানে কয়েক মিনিট বক্তব্যও রাখেন।

এই ঘটনাকে অবশ্য অন্য ভাবে দেখছেন ঋতব্রত শিবিরের নেতারা। শিবিরের অন্যতম মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার কুণালের উপস্থিতিকে ভবিষ্যতে ‘শিবির বদলের’ ইঙ্গিত হিসাবেই দেখেছেন। তাঁর কটাক্ষ, কুণাল যেন তাঁদের কাছে ‘কলিং বেল বাজিয়ে’ গেলেন, পরে নাকি লাগেজ নিয়ে চলে আসবেন।

তবে সেই জল্পনা একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন কুণাল। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই। বরং ঋতব্রত শিবিরের কর্মসূচিতে গিয়েও তিনি প্রকাশ্যে মমতার নাম নিয়েছেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন।

কুণালের কথায়, ‘‘দু’নৌকায় পা দিয়ে কুণাল ঘোষ চলে না।’’ তাঁর বক্তব্য, যে জায়গায় দলের নাম করে পতাকা উত্তোলন হচ্ছিল, সেটি তাঁর বিধানসভা এলাকার মধ্যেই পড়ে। তাই সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোকে শিবির বদলের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।

ঋতব্রত শিবিরের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও অবশ্য বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দিতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক পরিবেশে কেউ শ্রদ্ধা জানাতে এলে তাঁকে বাধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কুণাল ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাই কর্মসূচিতে এসেছেন— এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই।

ঋতব্রতপন্থী কর্মসূচিতে বক্তৃতার সময় কুণাল বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তোলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার এবং গ্রেফতারের দাবিও জানান তিনি।

পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিজের নেত্রী হিসাবে উল্লেখ করে কুণাল জানান, তাঁর রাজনৈতিক লড়াই এখনও সেই নেতৃত্বকে সামনে রেখেই চলছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসে একই দিনে তৃণমূলের দুই শিবিরের মঞ্চে কুণালের উপস্থিতি নতুন জল্পনা তৈরি করলেও, তাঁর নিজের বক্তব্যে আপাতত অবস্থান বেশ স্পষ্ট— শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া আর শিবির বদল করা এক বিষয় নয়।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *