চাকরির নামে ৯ কোটি টাকার লেনদেন?
পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে তাঁর জামিনের বিরোধিতা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, বিভিন্ন পুরসভায় মোট ২৮৪ জন অযোগ্য প্রার্থীকে বেআইনি ভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। আর সেই নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরিপিছু প্রায় ৬ লক্ষ টাকা করে লেনদেন হত বলে অভিযোগ ইডির।
বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে সুজিতের জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। ইডির তরফে বলা হয়, প্রাক্তন মন্ত্রী সাধারণ কোনও অভিযুক্ত নন। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় জামিন পেলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও বিচারপতি প্রশ্ন করেন, সুজিতকে জেলে রেখে তদন্তের ক্ষেত্রে আর কী কী তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব এবং তাঁকে হেফাজতে রাখার প্রয়োজনীয়তাই বা কতটা।
ইডির আইনজীবী তথা কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে জানান, সুজিতের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে পুরসভাগুলিতে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগ। ইডির দাবি, সুজিতের সুপারিশের ভিত্তিতেই বেশ কিছু নিয়োগ হয়েছিল এবং তার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, সুজিতের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই প্রায় ৮ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অ্যাকাউন্টেও কোটি কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। এই বিপুল সম্পত্তির উৎস চাকরি দেওয়ার নামে নেওয়া টাকা কি না, সেটিই তদন্তের অন্যতম বিষয় বলে জানিয়েছে ইডি। পাশাপাশি সুজিত এবং তাঁর পরিবারের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের কথাও আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইডির দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া ডিজিটাল তথ্যেও সুজিতের নাম উঠে এসেছে। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ১৫২ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম সুজিত সুপারিশ করেছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। নিতাই দত্ত নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমেও চাকরির সুপারিশ করা হত বলে অভিযোগ।
আদালতে আরও দাবি করা হয়, শুধু সুপারিশ নয়, ওএমআর কারচুপির মাধ্যমেও অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রকৃত মেধাবী প্রার্থীদের উত্তরপত্র সঠিক হওয়া সত্ত্বেও তা গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ ইডির।
তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইসচেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিলের মতো বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘কোটা’ ব্যবহার করেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপারিশের কথাও আদালতে উল্লেখ করেছে ইডি।
পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান পাচু রায়ের নামও উঠে এসেছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। ইডির দাবি, নিয়োগের মাধ্যমে যে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই গোটা প্রক্রিয়াই আর্থিক তছরুপের আওতায় পড়ে।
তবে আদালতে ইডির এই সমস্ত অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার দাবি হিসাবেই উপস্থাপিত হয়েছে; এগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত নয়। এখন মূল প্রশ্ন, সুজিত বসুকে জামিন দেওয়া হবে কি না এবং তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁকে হেফাজতে রাখার প্রয়োজনীয়তা আদালত কী ভাবে বিচার করে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।